রেলের সঙ্গে সমন্বয়ে অভাবে থমকে ডালখোলা বাইপাস

229

বরুণ মজুমদার, ডালখোলা : প্রায় দেড় দশক আগে ডালখোলা বাইপাসের শিলান্যাস হলেও এখনও তার কাজ শেষ হয়নি। বাইপাস নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ও বিজেপির তর্জা তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, বাইপাস নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন আগে জমি অধিগ্রহণ করে তা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভোটের কারণে এ নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। কংগ্রেসের তরফেও জানানো হয়েছে, তাদের আমলে টিআর বালু ডালখোলা বাইপাসের শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি সরকারের উদাসীনতায় ডালখোলাবাসী যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাননি। পদ্ম শিবিরের পালটা দাবি, তৃণমূলের তোলাবাজির কারণে কাজে দেরি হচ্ছে।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাইপাসের অনেক কাজ এখনও বাকি। দুর্গাপুজোর আগে ডালখোলা বাইপাস চালু করা সম্ভব নয়। কিন্তু কীসের জন্য এতদিনেও বাইপাসের কাজ শেষ হল না, তা নিয়ে কোনও সদুত্তর নেই আধিকারিকদের মুখে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কাজে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ হল, রেল ও সড়ক আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয়ে অভাব। বাইপাসের একাংশে রেললাইনের ওপর উড়ালপুল তৈরির কথা। কিন্তু দুই বিভাগের মতানৈক্যে সে কাজ শেষ হচ্ছে না। রেলের প্রতিনিধিদল উড়ালপুলের স্তম্ভগুলি একাধিকবার খতিয়ে দেখে গেলেও কাজ এগোয়নি বিন্দুমাত্র। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিনিধিদল ছাড়পত্র দিলে তবেই লাইনের ওপর দিয়ে উড়ালপুলের কাজ শুরু হবে। এ নিয়ে কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএমের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ডালখোলা পুরসভার চেয়ারপার্সন সুভাষ গোস্বামী। তিনি বলেন, ডিআরএম সাহেবের গাফিলতির কারণে রেললাইনের ওপর উড়ালপুলের কাজ এগোতে পারছে না। উড়ালপুলের কাজ দ্রুত কাজ শেষ করতে আমি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির প্রতিলিপি উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম-কেও পাঠিয়েছি।

- Advertisement -

কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, গ্যাংটক, ত্রিপুরা যাওয়ার জন্য ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ডালখোলার ওপর দিয়ে যেতে হয়। এখানে জাতীয় সড়ক ভেদ করে রেললাইন গিয়েছে। সে লাইন দিয়ে প্রতিদিন ৬৫ জোড়া যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। প্রতি ১৫ মিনিটে একবার লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ হয়ে প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়। ডালখোলা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি রাকেশ দেসরকারের কথায়, একেক সময় প্রায় ২৫ কিলোমিটার লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়। একদিকে সাধারণ মানুষের যেমন দেরি হয়, তেমনই মালবাহী ট্রাক আটকে থাকায় ক্ষতি হয় ব্যবসায়ীদের।

রেল ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, উড়ালপুলের পুরোনো নকশায় রেলের আপত্তি ছিল। বুড়ি মহানন্দা নদীর ওপর সেতুর নকশাও বদল করার কারণে কাজের সময় বাড়তে থাকে। এখনও প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ বাকি। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের মালদা ডিভিশনের প্রকল্প আধিকারিক দিলীপকুমার হানসারিয়া বলেন, রেললাইনের ওপর উড়ালপুলের গার্ডওয়ালের কাজ সম্পূর্ণ। বুড়ি মহানন্দা নদীর ওপর ব্রিজের কাজ চলছে, ডালখোলা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে মহম্মদপুরের আন্ডারপাসের কাজও প্রায় শেষের মুখে। তাঁর বক্তব্য, রেলের আধিকারিকদের উড়ালপুলের কাজ পরিদর্শন করে দেখার জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছিল। রেললাইনের ওপর সেতুর জন্য একটি ক্রেন কাজ করছে। আরেকটি ক্রেন বসিয়ে রাখা হয়েছে। তার জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে মোটা অঙ্কের মাশুল গুনতে হচ্ছে।