স্লুইস গেট তৈরি করতে গিয়ে ভাঙল বাঁধ, প্লাবিত গ্রাম

213
ছবি: পঙ্কজ ঘোষ

গাজোল: কালভার্ট ভেঙে স্লুইস গেট তৈরি করতে গিয়ে বিপত্তি। হঠাৎ করে বেহুলা (শ্রীমতি) নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে ভেঙে গেল অস্থায়ী বাঁধ। এর জেরে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছে কাঞ্চননগর এলাকায়।

দিন সাতেক ধরে একনাগাড়ে ঢুকে চলেছে জল। যার ফলে জলের তলায় চলে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। ডুবে গিয়েছে পাট, ভুট্টা, ধান সহ অন্যান্য শাক সবজির জমি। বাঁধের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কাঞ্চননগর, বিনোদপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর প্রভৃতি এলাকার প্রায় ৪০০টি পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। খুব জরুরি প্রয়োজন পড়লে জলের প্রবল স্রোতের মধ্যে জীবন হাতে করে নিয়ে ভাঙা অংশ পার হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

- Advertisement -

ব্লক প্রশাসনের কাছে ভাঙা অংশ পারাপারের জন্য একটি নৌকা দাবি করেছেন এলাকাবাসীরা। গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, সমস্ত বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিডিওকে জানানো হয়েছে। বিডিও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারাও কিছু একটা ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে।

গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তবে ঠিকাদার সংস্থার কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। করকচ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা সুরঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, ‘এই এলাকার কৃষকদের সুবিধার জন্য এখানে একটি স্লুইসগেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। তারপর হঠাৎ করে লকডাউন হয়ে যাওয়ায় কাজে সমস্যা দেখা যায়। এরপর শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। বাড়তে থাকে নদীর জল। দিন সাতেক আগে জলের চাপে অস্থায়ী রিং বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে জল ঢুকতে থাকে গোটা এলাকায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কাঞ্চননগর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সমস্ত বিষয়টি আমরা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিডিওকে জানিয়েছি। দাবি জানিয়েছি, এখানে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হোক। অথবা চলাচলের জন্য বাঁশের মাচা তৈরি করে দেওয়া হোক। বিডিও আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। তাঁরাও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।’

বিডিও উষ্ণতা মোক্তান জানিয়েছেন, সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ওখানে জলের তীব্র স্রোত রয়েছে। জলের প্রবল চাপে সেখানে রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। এলাকাবাসী চাইছেন, তাঁদের নৌকা দেওয়া হোক। কিন্তু জলের যে টান রয়েছে তাতে সেখানে নৌকো করে যাতায়াত করতে গেলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বাঁশের মাচা করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু যেহেতু সেখানে একটা বড় অংশ জুড়ে কংক্রিটের ঢালাই করা আছে, তাই বাঁশের মাচা তৈরি করার জন্য খুঁটি পোতা সম্ভব নয়। তবে সেচ দপ্তর জানিয়েছে, জল একটু কমলেই যে রাস্তাটি ভেঙেছে সেটি আরেকটু উঁচু করে তৈরি করে দেওয়া হবে। তবে অস্থায়ী রিং বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ যে চরম সমস্যায় পড়েছেন তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার কতদিনে এই সমস্যার সমাধান হয়।