সেচ ও বন দপ্তরের চাপানউতোরে বন্ধ বাঁধ সংস্কার

197

ওদলাবাড়ি: কালিম্পং বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকায় লিস নদীর ধারে ৬৩ বছরের পুরোনো একটি সেচবাঁধের সংস্কার নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে সেচ ও বন দপ্তরের মধ্যে। এর জেরে গত পাঁচদিন ধরে সেচবাঁধ সংস্কারের কাজ থমকে রয়েছে। জলপাইগুড়ি সেচ ডিভিশনের অন্তর্গত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটির প্রায় ৭০০ মিটার অংশের সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুই দপ্তরের চিঠি চালাচালিতে বন্ধ রয়েছে।

জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলার সীমান্তে বাগ্রাকোটের নিকটস্থ গ্রাম চুনাভাটি। বর্ষায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে লিস নদী। ২০০৯ সালের এই নদীর তাণ্ডব এখনও টাটকা চুনাভাটি ও বাগ্রাকোটের বাসিন্দাদের। এবছরও বর্ষার প্রথম ধাক্কায় কালিম্পং বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল চুনাভাটিতে সেচ বাঁধটির কয়েকটি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো জুন-জুলাই মাসের ব্যবধানে দু’বার পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হতেই কালিম্পং বনবিভাগের বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছে কাজ বন্ধ করে দেন।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে কালিম্পং বনবিভাগের ডিএফও চিত্রক ভট্টাচার্য জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করার আগে বনবিভাগের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি কেউ। সে কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেচ দপ্তরের মাল মহকুমার এসডিও-কে একটি চিঠি লিখে সাতটি প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক জবাব এলেই অনুমতি দেওয়া হবে। গত ২৩ জুলাই থেকে রাজ্যজুড়ে বিশেষ স্যান্ড মাইনিং পলিসি চালু হতেই বালি বজরি, বোল্ডারের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ ঠেকাতে কঠোর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছেন বন দপ্তরের কর্মীরা।

এদিকে, বন দপ্তরের কাজ বন্ধের নির্দেশে হতাশ সেচ দপ্তরের মাল মহকুমার এসডিও দেবব্রত সরকার। তিনি জানান, গত ৬৩ বছর ধরে সেচ দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ এই নদী বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। কোনওদিন এমন পরিস্থতি হয়নি। এখন হঠাৎ করে কেন ইমারজেন্সি কাজে বন দপ্তর বাধা দিয়ে চলেছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দেবব্রতবাবু।

এদিকে লাগাতার বৃষ্টিতে ফুঁসছে লিস নদী। যে কোনও সময় বাঁধে ফাঁটল ধরে নদীর জল গ্রামে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ২০০৯ সালের পর ফের একইরকম পরিস্থিতি দেখা দিলে তার দায় কে নেবে? প্রশ্ন আপামর বাগ্রাকোটবাসীর।