জমিতে মাজরা পোকার হানায় ধানের ক্ষতি

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : একদিকে করোনা সংক্রমণ হু হু করে ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে দফায় দফায় বাড়ছে লকডাউন। এরই মধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক এলাকার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে বিঘার পর বিঘা ধানের জমিতে মাজরা পোকা হানা দিচ্ছে। একইসঙ্গে ঝলসা রোগে ধান নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। এতে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। এর জন্য অকাল বৃষ্টি ও আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এই সমস্যার সমাধান না হলে সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

কালবৈশাখীর দাপটে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত। টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের খেতে জল। মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। তার ওপর মাজরা পোকার হানা ও ঝলসা রোগে ধানের প্রবল ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে মাঝে মধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে মালদা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। কখনও ভারী, আবার কখনও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাজরা পোকা, ঝলসা রোগ, তার সঙ্গে অকাল বৃষ্টির জেরে কপালে চিন্তার ভাঁজ ধানচাষিদের। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের মহেন্দ্রপুর, তুলসীহাটা, ভিঙ্গল, কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত সহ বহু এলাকার চাষিরা ধান রক্ষা করার তাগিদে ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করে নেমে পড়েছেন খেতে।

- Advertisement -

এখন প্রায় সব জমিতেই বোরো ধান তোলার সময় হয়ে এসেছে। তার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টিতে ধান চাষের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। ঝড়-বৃষ্টিতে পাকা ধানগাছ জমিতে শুয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে ধানের জমিতে জল জমেছে। চাষিদের আশঙ্কা, এতে ধান গাছে পচন ধরতে পারে। নষ্ট হয়ে যেতে পারে ধানের শিষ। বৃষ্টি না থামলে ধানে আঁকুর এসে যাবে। সেক্ষেত্রে জমি থেকে ধান কতটা উদ্ধার সম্ভব হবে তা নিয়ে চিন্তায় সবাই। ঠিক একইভাবে সমস্যায় পড়েছেন সবজিচাষিরাও। জমিতে জল জমে যাওয়ায় গাছে পচনের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের আনেসুর রহমান, ওয়াজেদ আলিরা জানান, লকডাউনে কর্মহীন অবস্থায় ঘরে বসে রয়েছি। এবছর ধান চাষ করে একটা আশা দেখেছিলাম। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে বেশির ভাগ শিষের গোড়া পচে গিয়েছে। ধান সাদা হয়ে পাতান হয়ে যাচ্ছে। এবছর আমরা প্রায় সবাই কৃষিঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব তার চিন্তায় সবার কপালে ভাঁজ পড়েছে। কৃষিঋণ মকুবের পাশাপাশি কৃষি বিমার জন্য আবেদনও করেছি আমরা।

জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, অকাল বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতির কথা শুনেছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। লকডাউনের জন্য অনেক কৃষক এবার সঠিক পরিমাণে পেস্টিসাইড ব্যবহার করতে পারেননি। তাছাড়া আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তন এর জন্য দায়ী। আমরা ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করেছি। যে সমস্ত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাঁরা বিমা কোম্পানির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক কৃষি আধিকারিক পলাশ সিদ্ধিয়া বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে চাষিদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে কৃষি বিমার কথা ভাবা হচ্ছে।