অকালবৃষ্টিতে ধান চাষে ক্ষতি আলিপুরদুয়ারে

299

বীরপাড়া: অকালবৃষ্টিতে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট, ফালাকাটা, কুমারগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার ধানচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিক্ষিপ্তভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানগাছগুলি নুয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃষ্টি খুব অল্প পরিমাণে হয়েছে। তাই বেশি ক্ষতির আশঙ্কাও নেই। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রের খবর, পুজোর রাতে আলিপুরদুয়ার জেলায় গড়ে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে মাঠে রোপণ করা ধানের একটা বড় অংশই পরিপক্ব হওয়ার মুখে। তাই এই সময় বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।

- Advertisement -

কৃষকরা অবশ্য অন্য কথা বলছেন। মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের খয়েরবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমির ধানগাছগুলি মাটিতে পড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। এলাকার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ‘যে জমির ধানগাছগুলি মাটিতে নুয়ে পড়েছে সেগুলিতে উৎপাদিত ধানের বড়জোর তিনভাগের একভাগ ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে। এবার অল্প বৃষ্টি হলেও ধানগাছগুলি মাটিতে পড়ে যাওয়ায় বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। ‘ফালাকাটা ব্লকের পূর্ব দেওগাঁওয়ের কৃষক বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘দানা শক্ত হয়নি এমন অনেক ধানগাছ সম্প্রতি বৃষ্টিতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া যে গাছের ধান পেকেছে সেগুলি বৃষ্টিতে নুয়ে মাটিতে পড়ায় ধানগুলি ঝরে পড়ে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, খয়েরবাড়ি বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় যেগুলি ক্ষেতের ধানগাছগুলি নুয়ে মাটিতে পড়েছে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বন ‌‌ থেকে বেরিয়ে আসা টিয়াপাখির ঝাঁক। হাজার হাজার পাখি সাবাড় করে চলেছে বিঘার পর বিঘা জমির ধান।

কুমারগ্রাম ব্লকেও দেখা গিয়েছে বিঘার পর বিঘা জমির ধানগাছগুলি নুয়ে মাটিতে পড়েছে। এতে ফসল তোলার আগে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হল বলে আক্ষেপ করেছেন কামাখ্যাগুড়ি এলাকার অনেক ধানচাষি।

এই প্রসঙ্গে, আলিপুরদুয়ারের জেলার কৃষি অধিকর্তা হরিশ রায় বলেন, ‘অল্প বৃষ্টি হওয়ায় তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। শিষের ভারে অনেক সময় ধানগাছ নুয়ে মাটিতে পড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে কতটা ক্ষতি হতে পারে তা প্রত্যক্ষ না করে বলা মুশকিল।‘