জরাজীর্ণ ঘোলানি সেতু দিয়ে বিপজ্জনক যাতায়াত

নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম : দুর্ঘটনা এড়াতে জরাজীর্ণ ঘোলানি সেতু সংস্কারের দাবি জানালেন কুমারগ্রামের পুখারিগ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে বেহাল ওই সেতু মেরামতের দাবি জানালেও কোনও পদক্ষেপ করেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এ নিয়ে বিধানসভা ভোটের মুখে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সালে পুখারিগ্রামে ঘোলানি নদী পারাপারে পাকা সেতু নির্মাণ করেছিল জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। তারপর দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। সংস্কারের অভাবে সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ বেহাল সেতু ভেঙে যে কোনও দিন বড়সড়ো বিপদ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার বলেন, সেতু সংস্কারের ব্যাপারে পুখারিগ্রামের বাসিন্দাদের কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। সেতুর পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। খারাপ থাকলে অবশ্যই মেরামত করা হবে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা অশ্বিনীকুমার দাস বলেন, সেতুর মেইন পিলারে ফাটল ধরেছে। সেতুর বেশ কয়েক জায়গায় রেলিং ভেঙে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডেক ঢালাইয়ে কিছু অংশে কংক্রিট খসে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ দুর্বল সেতুর প্রায় সমস্ত অংশেই আগাছা গজিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনও দিন সেতু ভেঙে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার পর গোটা রাজ্য তোলপাড় হয়েছিল। ওই সময় দুর্বল সেতু হিসেবে চিহ্নিত করে বিডিও অফিসের কর্মীরা জরাজীর্ণ ঘোলানি সেতুর ছবি তুলে নিয়ে যান। তারপর টানা দুবছর কেটে গেলেও সেতু মেরামতে কোনও উদ্যোগ নজরে পড়েনি। এলাকার আরেক বাসিন্দা জ্ঞান দাস বলেন, মাঝেরহাট সেতু কাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে নির্দেশে দুর্বল সেতু চিহ্নিতকরণে অন্যান্য জেলার মতো তৎপর হয়ে উঠেছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কর্তারাও। ওই সময় জেলা প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হলেও বেহাল সেতু মেরামতে কাজ হয়নি কিছুই।

গৃহবধূ নমিতা দাস বলেন, রেলিং ভেঙে পড়ায় সেতুটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গতবছর এক স্কুল পড়ুয়া সেতু থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছিল। নড়বড়ে বেহাল সেতু পেরিয়ে গ্রামবাসীদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। কখন কী বিপদ ঘটবে সেটা কেউ বলতে পারে না। একই কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দা হাসিনা বিবি, নলিনী সাহা, শীলেশ্বর দাস সহ অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে এলাকার জেলা পরিষদ সদস্যা কল্পনা নাগ বলেন, দুর্বল ঘোলানি সেতু সংস্কারের বিষয়টি প্রশাসনিক বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।