জল কমতেই কঙ্কালসার চরতোর্ষা ডাইভারসন দিয়ে বিপজ্জনক যাতায়াত

318

ফালাকাটা: জল কমতেই বুধবার ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা ডাইভারসনের কঙ্কালসার চেহারা প্রকট হয়ে ওঠে। এই ডাইভারসনের দু’দিকের অ্যাপ্রোচ রাস্তা ভেঙে গিয়েছে।

ডাইভারসনের মাঝখানেও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে৷ এজন্য বুধবারও ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়ক পথে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। তবে ভাঙাচোরা ডাইভারসনের উপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে বাইক, সাইকেল ও কিছু ছোট গাড়ি চলাচল করেছে। এলাকার মানুষ দ্রুত ডাইভারসন সারাইয়ের দাবি তুলেছেন। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, বিষয়টি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই ডাইভারসন সারাইয়ের কাজ শুরু হবে।

- Advertisement -

সোমবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে জলের তোড়ে ভেঙে যায় চরতোর্ষা ডাইভারসন। এই চরতোর্ষা নদীর কাঠের সেতুটি ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙেছিল। এই রাস্তায় হচ্ছে চার লেনের মহাসড়ক। তবে চরতোর্ষায় এখনও নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়নি। যানবাহন চলাচলের জন্য হিউমপাইপ বসানো ডাইভারসনটি গত ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বর্ষাতেও বারবার ভেঙে যায়।

এবারও বর্ষা শুরু হতেই ডাইভারসন ভেঙে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি বুড়িতোর্ষা ও সনজয় নদীর দুর্বল কাঠের সেতুর পাশেও দুটি ডাইভারসন তৈরি করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টিতে এই দুটি ডাইভারসনেরও ক্ষতি হয়েছে। সনজয় নদীর উপরে থাকা কাঠের সেতুরও একাংশ ক্ষতি হয়েছে। তাই বড় কোনও যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করতে পারছে না।

মঙ্গলবার রাতে সেরকম বৃষ্টি না হওয়ায় বুধবার ডাইভারসনগুলির কঙ্কালসার চেহারা প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে চরতোর্ষা ডাইভারসনের পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হয়। যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত হয়। অ্যাপ্রোচ রাস্তা ভেঙে যায়। বড় বড় বোল্ডার যেখানে সেখানে পড়ে থাকে। শিশাগোড়, কালীপুর, বংশীধরপুর, মেজবিল, পলাশবাড়ি এলাকার নানা পেশার মানুষকে রোজ ফালাকাটা শহরে যেতেই হয়। তাই জল কমে যাওয়ায় এদিন বিপজ্জনকভাবেই ওই ডাইভারসনের উপর দিয়ে চলাচল করেন বাসিন্দারা। তাঁরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ফালাকাটার সুভাষপল্লীর বাসিন্দা সুব্রত সরকার কালীপুর পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার। তাঁকে বাইকে চেপে রোজ কালীপুরে আসতে হয়। তিনি বলেন, মঙ্গলবার পোস্ট অফিসে যেতে পারিনি। এদিন খুব কষ্টে ডাইভারসন পার হই। কয়েক বছর থেকে এই ভোগান্তি চলছে। এতদিনেও কেন বিকল্প সেতু তৈরি করা হল না সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।

শিশাগোড়ের ভবেশ বালো বলেন, বিকল্প সেতু তৈরি না হওয়ায় এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে বলা মুশকিল। তবে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, জল কমে যাওয়ায় এদিন কিছু গর্ত বন্ধ করা হয়েছে। বাইরে থেকে বোল্ডার ও অন্যান্য সামগ্রী আনা হচ্ছে। পরিস্থিতি আর একটু স্বাভাবিক হলেই দ্রুত এই ডাইভারসন ও সনজয় সেতুর মেরামত করা হবে।