বাতিল হচ্ছে কাশ্মীরের বুকিং, আশার আলো দেখছে দার্জিলিং

464

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ভূস্বর্গের ঘুম ভাঙছে ভারী বুটের আওয়াজে। বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, পর্যটনেও বড়ো ধাক্কা খেল কাশ্মীর। অশান্ত উপত্যকা থেকে মুখ ফেরানো শুরু হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এবার পুজোয় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দানা বেঁধেছে ঝিলাম নদী থেকে ডাল লেকে। মন খারাপের পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসাযীরা। কাশ্মীর পরিস্থিতিতে অবশ্য আশার আলো দেখছে দার্জিলিং পাহাড়। ভূস্বর্গের পরিবর্তে পুজোর সময় শৈলরানিকে পর্যটকরা বেছে নেবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী থেকে টুর অপারেটররা।

ডাল লেকের ধারে কি এবার পুজোয় পর্যটকদের ভিড় দেখা য়াবে? এই প্রশ্ন শুধু কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসাযীদের নয়, পশ্চিমবঙ্গের টুর অপারেটরদেরও। কেন্দ্রের পদক্ষেপে ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ হতেই বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে উপত্যকা। আর এর জেরেই পালটে গিয়েছে কাশ্মীর-পর্যটন পরিস্থিতি। অশান্ত হয়ে ওঠা ভূস্বর্গের পরিস্থিতি যে সহজে স্বাভাবিক হবে না, বুঝতে পারছেন পর্যটকরাও। তাই কেন্দ্রের পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই  শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর বুকিং বাতিল। পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছরই বেড়ানোর জন্য দার্জিলিং পাহাড়ের পাশাপাশি কাশ্মীর উপত্যকা বেছে নেন বাঙালি পর্যটকরা। এ বছরও প্রচুর পর্যটক হোটেল, রিসর্ট বুকিং করে রেখেছিলেন। কিন্তু যা পরিস্থিতি, কতজন পর্যটক কাশ্মীর যাবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পুজোর সময় জম্মু ও কাশ্মীরে যত বাঙালি পর্যটক য়ান, তাঁদের সিংহভাগই দক্ষিণবঙ্গের। ফলে কলকাতাকেন্দ্রিক টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সিগুলি বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন। এমনই একটি সংস্থা চালান বাচ্চু চৌধুরি। তিনি বলেন, সোমবার পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই খোঁজ নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার থেকে বুকিং বাতিল শুরু হয়ে গিয়েছে। দিনে কতজন যে বুকিং বাতিল করেছেন, তার হিসেব নেই। গত ১০ বছরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

- Advertisement -

তবে অনেকে আরও কিছুদিন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পক্ষপাতী বলে জানান কৈখালির পর্যটন ব্যবসায়ী দেবাশিস বসু। সোনারপুরের টুর অপারেটর লিলি চৌধুরির বক্তব্য, কয়েদিন আগে অমরনাথ অশান্ত হয়ে উঠতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছিল পর্যটকদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করায় কেউ আর উপত্যকায় যাওয়ার সাহস দেখাতে চাইছেন না। ফলে বুকিং বাতিল শুরু হয়ে গিয়েছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে। কাশ্মীর নিয়ে যখন আশঙ্কার কালো মেঘ, তখন আশার আলো দার্জিলিং পাহাড়ে। ভূস্বর্গের পরিস্থিতিতে দার্জিলিংকে পুজোর সময় পর্যটকরা বেছে নেবেন বলে মনে করছেন পাহাড়-সমতলের পর্যটন ব্যবসাযীরা। লোকসভা নির্বাচনের সময় কিছুটা হলেও উপত্যকা অশান্ত হয়ে উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতে অনেক পর্যটকই দার্জিলিংকে বেছে নিয়েছিলেন। পুজোর সময়ও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল। তিনি বলেন, যাঁরা পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই দার্জিলিং এবং সিকিমকে বেছে নেবেন। প্রতি বছর পুজোর সময় উত্তরবঙ্গ থেকে কাশ্মীরে বেড়াতে যান এক হাজারের মতো পর্যটক। তাঁরাও বুকিং বাতিল করবেন বলে সম্রাটবাবু মনে করছেন। একই বক্তব্য পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসুর। দার্জিলিংয়ে হোটেল ব্যবসায়ী মণি ছেত্রী বলেন, প্রায় একশো শতাংশ বুকিং হয়ে গিয়েছে। কাশ্মীর যেতে চাওয়া পর্যটকরা য়দি এখানে আসেন, তবে এবার দার্জিলিং নতুন করে হাসবে।