শিলিগুড়ি, ১৫ জুলাই : দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) নিয়ে ভারতীয় রেলের উদ্যোগে খুশি নয় ইউনাইটেড নেশনস্ এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (ইউনেসকো)। আর তাই ফের একবার ডিএইচআরের উপর থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বা বিশ্বের ঐতিহ্য তকমা সরিয়ে নিতে চাইছে ইউনেসকো। সম্প্রতি ভারতীয় রেলকে এই মর্মে সতর্কও করে দিয়েছে ইউনেসকো। ভারতীয় রেল কর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, ডিএইচআরের সংরক্ষণ এবং একে সফলভাবে চালাতে সবরকম প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

দার্জিলিংয়ের টযট্রেনের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংয়ের পথে চলাচলকারী ১৪০ বছরের পুরানো এই টয়ট্রেনকে বিশ্বের ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। কিন্তু দফায় দফায় টয়ট্রেন পরিসেবা ব্যাহত হওয়ায় এর আগেও ডিএইচআরের মুকুট থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউনেসকো। ডিএইচআরের অবশ্য দাবি, পাহাড়ে ধসের জেরে সারা বছর টয়ট্রেন ঠিকমতো চালাতে সমস্যা হচ্ছে। ধসের জেরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টযট্রেনের লাইন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই লাইন পুনরায় সংস্কার করে আবার সেখান দিয়ে ট্রেন চালাতে অনেকটা সময় নষ্ট হচ্ছে।

- Advertisement -

কিন্তু ইউনেসকোর অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টয়ট্রেনের লাইনে বর্জ্য ফেলা, রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি সংক্রান্ত কোনো তথ্যই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটিকে দেয়নি ভারতীয রেল। এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে ভারতীয় রেল। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জীব রায় জানিয়েছেন, হেরিটেজ তকমা ধরে রাখার জন্য সমস্ত নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। আমরা ইউনেসকোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলি এবং নিয়মিত বৈঠকও করা হয়। সমস্যা হচ্ছে, যে এলাকা দিয়ে টয়ট্রেনের লাইন গিয়েছে তার একাংশ দিয়ে যানবাহনও চলাচল করে। এক পাশে অনেক বাড়িঘরও রয়েছে। অনেক সময় মানুষ টয়ট্রেনের লাইনে বসে থাকেন আবার অনেক সময় যানবাহনও দাঁড় করানো থাকে। ফলে টয়ট্রেন চালাতে কিছুটা সমস্যা হয়। আমরা টয়ট্রেন ভালোভাবে চালানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। কাজেই হেরিটেজ তকমা কেড়ে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে না হওয়ার খবর পেয়ে ইউনেসকো প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও বেনজির কিছু নয়। ফলে  ডিএইচআরের মুকুটেও আগামীতে এই তকমা ধরে রাখাটা এখন ভারতীয় রেলের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ।