সাড়ে চার দশকেও দৌলতপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়নি

দিলীপকুমার তালুকদার, বুনিয়াদপুর : স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য জমি মিলেছে প্রায় সাড়ে চার দশক আগে। কিন্তু সেখানে এখনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। পরিত্যক্ত জমিতে এখন ধান চাষ হচ্ছে। চরে বেড়াচ্ছে গোরু, ছাগল সহ অন্য গবাদিপশু। ফলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বংশীহারী ব্লকের গাঙ্গুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দৌলতপুর সহ একাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকারের আমলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে না ওঠায় অনেকেই হতাশ। বর্তমান স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

বুনিয়াদপুর থেকে মালদা যাওয়ার পথে জাতীয় সড়ক ধরে ১০ কিমি দূরে ক্ষুদ্র জনপদ দৌলতপুর। সেখানেই গ্রামীণ লোকেদের স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজলভ্য করে তুলতে প্রায় ৪৫ বছর আগে তৎকালীন কংগ্রেসি বিধায়ক মসলেউদ্দিন আহম্মেদ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু করেন। তাঁর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় ২০-২২ কিমি দূরে রশিদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে যেতে হত না। তাঁর এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন দৌলতপুরের বাসিন্দা রামরঞ্জন চক্রবর্তী, প্রয়াত নিতাই গুহ, প্রয়াত পরেশ কুণ্ডু সহ আরও অনেকে। তাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য প্রায় চার একর জমির ব্যবস্থা করে দেন। এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র হচ্ছে জানতে পারার পর এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হন হরিরামপুরের বিধায়ক মিনতী ঘোষ। সকলেই আশা করেছিলেন, প্রাক্তন কংগ্রেসি বিধায়কের স্বপ্নপূরণে উদ্যোগী হবেন তিনি। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে উদ্যোগী হননি।

- Advertisement -

পরবর্তীতে সিপিএম নেতা নারায়ণ বিশ্বাস হরিরামপুরের বিধায়ক হয়ে দৌলতপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ২০০৯ সাল নাগাদ বংশীহারীর তৎকালীন বিএমওএইচ তাপসকুমার সাহার পরামর্শে ওই চার একর জমি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে নথিভুক্ত করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি তিনি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠান। পরবর্তীতেত স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা জমি পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশান্বিত হন যে এবারে হয়তো স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার ছাড়পত্র মিলবে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেই উদ্যোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। ২০১১ সালে বিপ্লব মিত্র হরিরামপুরের বিধায়ক নির্বাচিত হলে ফের একবার জমি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বেশকিছু টাকা টাকাও বরাদ্দ হয়। কিন্তু তারপরেও একটি ইটও গাঁথা হয়নি। ২০১৬ সালে বিপ্লববাবু বিধানসভা ভোটে হেরে গেলে দৌলতপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

দৌলতপুরের বাসিন্দা রামরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকারের বর্তমান কার্যকাল শেষ হতে চলল। কিন্তু দৌলতপুরের অতি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র আজও গড়ে উঠল না। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিজস্ব জমি থাকলেও এবং বেশকিছু টাকা বরাদ্দ হলেও শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধিদের গয়ংগচ্ছ মনোভাবের কারণেই এই কাজ সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে উঠলে প্রচুর মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতেন। তাঁদের আর অর্থ এবং সময় ব্যয় করে রশিদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হত না। শেষ চেষ্টা হিসাবে আমরা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দ্বারস্থ হব। বংশীহারী ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক পুলকেশ সাহা বলেন, আমি মাত্র আড়াই বছর আগে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। প্রায় ৪৫ বছর আগে কী হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।