বারবিশা, ১ অগাস্ট : একই ঘরের মধ্যে পরিবারের তিন সদস্যের দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল অসম-বাংলা সীমান্তবর্তী পাকড়িগুড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে বাসুদেব পাল নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পড়েছিল বাসুদেববের স্ত্রী ও আট বছরের শিশুকন্যার দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন বাসুদেব পাল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বছর দশেক আগে অসমের বরপেটার বাসিন্দা বাসুদেব পালের সঙ্গে পাকড়িগুড়ির বাসিন্দা অনিমার বিয়ে হয়। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির জেরে বিয়ের দু’বছরের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অনিমা বাপের বাড়িতে চলে আসে। সেখানেই তিনি কন্যাসন্তান অঙ্কিতার জন্ম দেন তিনি। অনিমার মা জানিয়েছেন, বাসুদেব মাঝেমধ্যে শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকতেন। অনিমা-বাসুদেবের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়াও হত। বুধবার রাতেও সম্ভবত দুজনের অশান্তি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বারবার ডাকা সত্ত্বেও ঘরের দরজা খোলেননি বাসুদেব বা অনিমা। অনিমার মা প্রতিবেশীদের খবর দেন। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে প্রতিবেশীরা বাসুদেবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিছানায় অনিমা ও অঙ্কিতার নিথর দেহ পড়েছিল। প্রতিবেশীরাই পুলিশে খবর দেন। বারবিশা আউটপোস্টের ওসি অমিত শর্মা জানান, তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।