মরা গোরু লাখ টাকা, রাতের ব্যবসায় কোটিপতি অনেকেই

0
1334
- Advertisement -

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : কথায় বলে মরা হাতি লাখ টাকা। সে না হয় তার দুই দাঁতের জন্যে মেলে। কিন্তু তাই বলে মরা গোরুতেও টাকার কারবার? রাজনীতি ও প্রশাসনের কেষ্টবিষ্টুদের প্রণামি বা নজরানা দিয়ে এই কোটি টাকার মুনাফার খেলায় শামিল এক শ্রেণির মিডলম্যান ও লোকাল শেলটার। এদেশ থেকে বাংলাদেশে গোরু পাচার নতুন কথা নয়। এই রাজ্য বা ভিনরাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর লাইনম্যানরা বিভিন্ন রুট দিয়ে গোরুগুলি সীমান্ত পার করে দেয়। মাঝেমধ্যে রেইড, রাস্তায় ক্যাটেল লাইনের বখরা আর গোরু পাচার নিয়ে রাজনীতি হয় বটে তবে তা নিয়ে আমআদমির খুব একটা ভাবনা নেই। রাতের অন্ধকারে জ্যান্ত গোরুর কারবার নিয়ে যখন গড়পড়তা মানুষের মাথাব্যথা নেই তখন আর মরা গোরু নিয়ে কে ভাবে? আর এই সুযোগেই এই ব্যবসার বাড়বাড়ন্ত।

উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান থেকে কেনা গোরুগুলির বেশিরভাগই বিহার হয়ে এরাজ্যে ঢোকে। চেহারায় আমাদের এখানকার গোরুগুলির তুলনায় উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এই গোরুগুলি বেশ কিছুটা বড় ও তাগড়া হওয়ায় পাচারের বাজারে চাহিদাও বেশি। সীমান্তে পেঁছানো পর্যান্ত লম্বা যাত্রাপথে রাতেরবেলা যতটা সম্ভব রাস্তা চলা হলেও দিনেরবেলায় যাত্রাপথে থাকা শেলটার বা রেস্ট এরিয়ায় গোরুগুলিকে রাখা হয়। সরাইখানার মতো এই জায়গাগুলিতে গোরুগুলিকে নামিয়ে জল ও খাবার দিয়ে ফের ট্রাকে তোলা হয়। আঘাত পেলে গোরু কোনও আওয়াজ করে না। যাত্রাপথে যাতে গোরু না ডেকে ওঠে সেজন্য চোখের পাতায় লংকা পুরে সেগুলিকে চুপ করিয়ে রাখা হয়। যাত্রাপথের ধকল ও ঠাসাঠাসি করে যাত্রার জেরে প্রতিটি ট্রিপেই কিছু রুগ্ন ও বয়স্ক গোরু মারা যায় বা মৃত্যুমুখে পৌঁছে যায়। এই গোরুগুলিকে নিয়ে বিপদের আশঙ্কায় লাইনম্যানরা সেগুলিকে শেলটার এরিয়ার মালিকদের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়স্তরে প্রভাবশালী এই শেলটারম্যানরা রাতারাতি ওই গোরুগুলিকে আড়াল করার কাজ করে। এজন্য লাইনম্যান এবং পাচারচক্রের পান্ডারা শেলটারম্যান বা হ্যান্ডলারদের গোরু প্রতি খরচ দেয়। হিসেবমতো শেলটারম্যানদের মরা গোরুগুলিকে সাফ করে দেওয়ার কথা। কিন্তু এই গোরুগুলিকে নিয়ে সংগঠিত মাংসের কারবার গড়ে উঠেছে। এ তল্লাটে গোরুর মাংস বর্তমানে ২০০ টাকা কেজি হলেও বাংলাদেশে তা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ভুটানে এই দর ৩৫০-৪০০ টাকা। মৃত বা মৃতপ্রায় গোরুগুলিকে রাতের অন্ধকারে মাংস হিসাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভুটানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে পাচার নিয়ে কড়াকড়ি থাকলেও ভুটান সীমান্তে তার সিকিভাগও নেই। তাই সকাল হলেই গোরুর মাংস ভালো দামে সেখানকার খোলাবাজার ও রেস্তোরাঁগুলিতে বিক্রি হয়ে যায়।

মাংস পাচারচক্রের এক পান্ডার কথায়, একটি গোরুতে গড়ে ৩০০ কেজি বা তারও বেশি মাংস মেলে। পুঁতে তা নষ্টের চেষ্টা করলে বহু সমস্যা হতে পারে। তাই এই ব্যবস্থা শুরু হয়। তবে মুনাফা একা হজম করা যায় না। সেফ রুট আর চুপচাপ কারবার চালিয়ে যেতে সবাইকেই ভাগ দিতে হয়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় জাতীয় ও রাজ্য সড়কে নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। অবৈধভাবে গোরু সহ অন্যান্য পশু পাচার হলে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি পদক্ষেপও করা হয়।

- Advertisement -