জোরপাটকি গ্রামে কান্নার রোল, প্রশ্নের মুখে গণতন্ত্রই

188

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শীতলকুচি: কিছুক্ষণ আগেই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বাড়ির একমাত্র রোজগেরে। এখনও সেই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারেনি পরিবার। পাটকাপাড়া গ্রামে মাত্র দেড়মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে ধাতস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন মণিরুজ্জামানের স্ত্রী। বাড়িতে ভিড় করেছেন প্রতিবেশীরা। চোখে শূন্যতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মণিরুজ্জামানের বাবা। ছেলে গ্যাংটকে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। কী করে যে ছেলে গণ্ডগোলের মধ্যে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারাল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। মণিরুজ্জামানের আত্মীয় এক যুবক জানালেন, ঘটনার সময় তিনি ভোটের লাইনেই ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি বুথে ঢুকতেই তিনি পালিয়ে যান। তারপরেই এই ঘটনা।

গুলিতে মারা গিয়েছেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা হামিদুল মিয়াঁ। রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। হামিদুলের স্ত্রী গর্ভবতী। বাড়িতে রয়েছেন বাবা-মা। ছেলের মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা দিল মহম্মদ। বাড়িতে ভিড় করা প্রতিবেশীদের কাছে জানতে চাইছেন কী এমন হল যে বাহিনীকে গুলি চালাতে হল। মাঝেমধ্যেই ছেলের শোকে ডুকরে কেঁদে উঠছেন।

- Advertisement -

শোকে পাথর জোরপাটকি গ্রামের শামিউল মিয়াঁর পরিবারও। বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা। একযোগে সকলেই দাবি করছেন যেন দোষীদের ফাঁসির শাস্তি হয়। ১৯ বছরের শামিউল মাথাভাঙা কলেজের চতুর্থ সিমেস্টারের ছাত্র ছিল। গরিব পরিবারের ছেলের চোখে স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু গণ্ডগোল কিছু একটা হচ্ছে আঁচ পেয়েই ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শামিউল। এদিন দুপুর থেকেই জোরপাটকি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে কান্নার রোল। গ্রামে পা রাখেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পুলিশের কেউ। আপাতত তার অপেক্ষাও করছেন না কেউ। স্বজন হারানো বাড়িগুলোতে এখন একটাই প্রশ্ন, কেন যে সরকারের কথা শুনে ভোট দিতে গেলাম ?