ক্যাম্প থাকলেও নেই মেডিক্যাল টিম, ডিসিআরসিতে মহিলা ভোটকর্মীর মৃত্যুতে ক্ষোভ

67

আসানসোল: ভোট গ্রহণের আগের দিন আসানসোলের ডিসিআরসিতে এক মহিলা ভোট কর্মীর মৃত্যুর হল। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুরে আসানসোলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। আসানসোলের সালানপুর থানার রুপনারায়নপুরের সুকান্ত পল্লীর বাসিন্দা মৃত ভোট কর্মীর নাম অসীমা মুখোপাধ্যায়(৪৯)। তিনি সালানপুরের পিঠাইকেয়ারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। অসীমাদেবীর ফাস্ট পোলিং অফিসার বা প্রথম ভোট কর্মী হিসাবে বারাবনি বিধানসভা এলাকার একটি বুথে সোমবার ডিউটি করার কথা ছিল। অন্যদিকে, এদিন কুলটির বাসিন্দা আরও এক ভোটকর্মী শিল্পী কুমার ভার্মা ডিসিআরসিতে ডিউটি বুঝে নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ওই ভোটকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন, জেলা নির্বাচনি দপ্তর ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। আসানসোলের ওই ডিসিআরসিতে মেডিকেল ক্যাম্প থাকলেও, সেখানে কোনও মেডিকেল টিম না থাকার অভিযোগ তুলে ধরেছেন ভোট কর্মীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, অসীমাদেবী যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, সেসময় মেডিক্যাল টিম ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বারংবার ডাকা হলেও কারও দেখা মেলেনি। এরপর তড়িঘড়ি ওই ভোটকর্মীকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক অনুরাগ শ্রীবাস্তব এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

- Advertisement -

জেলা শাসক বলেন, ‘অসীমা মুখোপাধ্যায় নামে ওই ভোট কর্মী এদিন ডিসিআরসিতে বারাবনি বিধানসভা এলাকার কাউন্টারে ভোটের সরঞ্জাম নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেডিকেল টিম তাকে সেখানে পরীক্ষা করার পরে দুপুর দেড়টার সময় তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। জেলাশাসক আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ওই ভোট কর্মীর মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। পরিবারের পাশে থাকার সবরকম আশ্বাস কমিশন দিয়েছে। ভোট কর্মীর মৃত্যুতে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা তা দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অশ্বিনী কুমার মাজি বলেন, ‘মেডিক্যাল টিম ডিসিআরসিতে ছিল। যেখানে তাদের থাকার কথা সেখানে তারা ছিলেন। যারা সেখানে ছিলেন, তাদের জানা উচিত ছিল। অসুস্থ ভোট কর্মীকে সেখানে নিয়ে যেতে হত।’