নৌকা নেই, সাপে কাটা নাবালিকার মৃত্যু

বিপ্লব হালদার, তপন : বন্যার জলে প্লাবিত হয়েছে এলাকা। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে সাপে কাটার চার ঘণ্টা পরেও হাসপাতালে পৌঁছোতে না পারায় মৃত্যু হল এক নাবালিকার। মৃতের নাম মুসলিমা খাতুন (১৩)। এই ঘটনায় একদিকে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই আতঙ্ক ছড়িয়েছে তপন ব্লকের পশ্চিম মান্দাপাড়ায়। এলাকায় নৌকা চালানোরও দাবি উঠেছে। রামপাড়া চ্যাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আনসার আলি বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা পশ্চিম মান্দাপাড়া এলাকার মানুষের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করছি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে মুসলিমা। ঘুমের মধ্যে সাপ ছোবল মারলে চিৎকারে করে ওঠে সে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজনও ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। বিষয়টি জানাজানি হতে গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুনর্ভবার বাঁধভাঙা জলে পশ্চিম মান্দাপাড়া, লক্ষ্মীপুর খাটিয়াপাড়া, নওগাঁ সহ কয়েক কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেই কারণে প্রায় চার ঘণ্টা পর গ্রামবাসীরা মুসলিমাকে নিয়ে গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছোন। সেখানে তিনদিন চিকিৎসা চলার মঙ্গলবার সন্ধেয় তার মৃত্যু হয়। এদিন সকালে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে বালুরঘাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

- Advertisement -

মুসলিমার মামা আক্কাশ আলি বলেন, ভাগ্নিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বন্যায় এলাকা ডুবে গিয়েছে। তাই ভাগ্নিকে কাঁধে নিয়ে সাঁতরে মালদা জেলার হরিশংকরপুরে গিয়ে উঠে। সেখান থেকে গঙ্গারামপুর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাকে ভর্তি করি। শুধুমাত্র যোগাযোগের সমস্যার জন্য ভাগ্নিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগে যায়। যদি তাকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতাম, তাহলে হয়তো বেঁচে যেত। বন্যায় আমাদের এলাকা জলমগ্ন হলেও সেখানে কোনও নৌকার ব্যবস্থা নেই। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছোনো যাবে না। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, আমাদের এলাকায় নৌকার ব্যবস্থা হোক।