হাতির হামলায় প্রৌঢ়ার মৃত্যু

362
ফাইল ছবি

জয়গাঁ: হাতির হামলায় অবসরপ্রাপ্ত এক মহিলা চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল জয়গাঁ থানার অধীন দলসিংপাড়া চা বাগানে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত প্রৌঢ়ার নাম হরিমায়া কামি (৬০)। তিনি দলসিংপাড়া বাগানের নয়া লাইনের বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে ওই প্রৌঢ়া শ্রমিক আবাসনে ফিরছিলেন। অভিযোগ, সে সময় একটি বুনো হাতি মহল্লার পাশে কলাগাছ খাচ্ছিল। প্রৌঢ়াকে আসতে দেখে হাতিটি ওই প্রৌঢ়ার সামনে গিয়ে তাঁকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে মাটিতে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই ওই প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বাগানের শ্রমিকরা। লোকজন দৌড়ে এলে হাতিটি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়গাঁ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের দেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীন হ্যামিল্টনগঞ্জ রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় রাতেই দলসিংপাড়া বাগান ও সংলগ্ন বনবস্তিতে হাতির ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। কয়েক মাস আগেও এলাকার গোপালবাহাদুর বস্তিতে এক মহিলার মৃত্যু হয় হাতির হামলায়। শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, আগে রাতের অন্ধকারে হাতি হামলা চালাত। এখন দিনের আলোতেও হাতি বিভিন্ন বস্তিতে ঢুকে পড়ছে। এতে চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দারা মৃত প্রৌঢ়ার পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি হাতি তাড়াতে বনদপ্তরের কাছে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবিও জানিয়েছেন বাসিন্দারা। শ্রমিক সংগঠন চা বাগান তৃণমূল কংগ্ৰেস মজদুর ইউনিয়নের বাগান ইউনিট কমিটির সম্পাদক সাহাজাহান রহমান (সাজু) বলেন, আর্থিক ক্ষতিপূরণের সঙ্গে মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে বন দপ্তরে চাকরির দাবি জানাব আমরা।

- Advertisement -

হ্যামিল্টনগঞ্জ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অঙ্কন নন্দী বলেন, ওই প্রৌঢ়ার মৃত্যু শ্রমিক বস্তিতে হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত জঙ্গলের ভেতরে মৃত্যু হলে সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন না মৃতের পরিবার।