বাড়িতে সিবিআইয়ের তল্লাশি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে মৃত্যু ইসিএলের আধিকারিকের

0

আসানসোল: বাড়িতে সিবিআইয়ের তল্লাশি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল ইসিএলের এক আধিকারিকের। ধনঞ্জয় রায় নামে ওই আধিকারিক ইসিএলের এরিয়া সিকিওরিটি ইনচার্জ পদে কর্মরত ছিলেন। রানিগঞ্জের কুনুস্তরিয়া এলাকার দায়িত্বে ছিল ধনঞ্জয়বাবুর হাতে। এদিন তাঁর বাড়িতে সিবিআইয়ের তল্লাশি চলাকালীন হঠাইই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় রানীগঞ্জ এলাকায় যথেষ্ঠ চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও ইসিএল সূত্রে জানা গেছে, মৃত ধনঞ্জয় রায় আসানসোলের রানিগঞ্জে ইসিএলের কুনুস্তরিয়া এরিয়ায় আবাসনে থাকতেন। এদিন সকালে যখন সেই আবাসনে যায় সিবিআইয়ের দল। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তিনি ছিলেন নিজের কর্মস্থল শিবডাঙ্গা কোলিয়ারিতে। সিবিআইয়ের দল সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে তাঁকে জেরা শুরু করে। এরপর আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সিবিআইয়ের দল তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আসানসোলের কাল্লায় ইসিএলের সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় ইসিএলের আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

- Advertisement -

কয়লাকাণ্ডের তদন্তে শনিবার রাজ্যের ৩০টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন সিবিআইয়ের অফিসাররা। কয়লা পাচারে অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালার পুরুলিয়া নিতুরিয়ার বাড়িতে তল্লাশির পাশাপাশি আসানসোল, পুরুলিয়া, রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর, বর্ধমানে বিভিন্ন তল্লাশি চলছে। সিবিআই অফিসাররা লালার অফিস এবং তাঁর সঙ্গীদের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন। ইসিএলের চার জেনারেল ম্যানেজারের বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। এদিন দুর্গাপুরের কাছে কাজোড়া এলাকায় কয়লা খাদানে সিবিআইয়ের অফিসাররা যান।

কী করে এই খাদান থেকে কয়লা তোলা হয় তা নিয়ে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ছবিও তোলেন তাঁরা। ২ ঘণ্টা খাদানে ছিলেন অফিসাররা। প্রসঙ্গত, আয়কর দপ্তরের তদন্তের পর কয়লা পাচারকাণ্ডে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। আয়কর দপ্তরের কাছে থেকে কেসের যাবতীয় ফাইলও সংগ্রহ করে তারা। সম্প্রতি কয়লাকাণ্ডে যুক্ত লালা ও বেশ কিছু ব্যবসায়ীর কলকাতা, আসানসোলের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল আয়কর দপ্তর। সেই তল্লাশিতে গোরুপাচারে যুক্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়লা ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের প্রমাণ মেলে। তারপরই তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই।

এদিকে ইসিএলের আরও ৬ জন সিবিআইয়ের নজরে রয়েছেন বলে খবর। যার মধ্যে ৪ জন জিএম পর্যায়ের আধিকারিক আছেন। এছাড়াও সিআইএসএফের আধিকারিকরাও সিবিআইয়ের নজরে রয়েছে। এদের আবাসন ও কর্মস্থলে সিবিআই তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা যায়, দুপুর পর্যন্ত তল্লাশিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।