নয়াদিল্লি, ২৬ ফেব্রুয়ারিঃ অশান্তির আগুন জ্বলছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায়। পুলিশ-প্রশাসনের যাবতীয় প্রতিরোধ সত্ত্বেও মৌজপুর, চাঁদবাগ, জাফরাবাদ, ভজনপুরা, গোকুলনগর প্রভৃতি এলাকায় চলল মারধর, লুঠপাট, অগ্নিসংযোগের একের পর এক ঘটনা। চলল গুলি। লাঠি, রড, ইট-পাটকেল, পাথর হাতে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গিয়েছে অনেককে। স্কুলবাসেও আগুন লাগানো হয় বলে খবর। একাধিক জায়গায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪। আহতদের সংখ্যা ২০০ জনেরও বেশি। হিংসার এলাকাগুলিতে টহল চালাচ্ছে পুলিশ ও র‍্যাফ।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এসএন শ্রীবাস্তবকে স্পেশাল কমিশনার পদে নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে ৬৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়। গভীর রাতে, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন। শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। হিংসা অধ্যুষিত এলাকায় সিবিএসই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে বলে খবর। দেশের রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পুলিশের সবরকম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা যাচ্ছে না। সেনাবাহিনী নামানো উচিত।‘ এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখবেন বলে জানান তিনি। দিল্লি হাইকোর্ট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন করেছেন। দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে দায়ী করল কংগ্রেস। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি।