কালী প্রতিমার পাটাতনে পিষ্ট হয়ে বুলবুলচন্ডীতে মৃত্যু প্রৌঢ়ের

458

হবিবপুর, ১০ নভেম্বর: প্রতিমা বিসর্জন করতে গিয়ে বিশালাকার কালী প্রতিমার কাঠামোর পাটাতনে চাপা পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। রবিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুরের বুলবুলচণ্ডীতে। মৃত ব্যক্তির নাম হারু সিংহ(৫০)। তিনি পেশায় চা বিক্রেতা। পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। অত্যধিক ভিড়ের চাপে টাল সামলাতে না পেরে ওই ব্যক্তি কালী প্রতিমার পাটাতনের নিচে চাপা পড়ে যান বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। গোটা ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। বন্ধ হয়ে যায় প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পূর্বপরিকল্পিত আতশবাজির প্রদর্শনী। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মালদা জেলা তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় কালীপুজো বুলবুলচণ্ডীর বাজার কালীপুজো।  উচ্চতায় প্রায় বিয়াল্লিশ  ফুট উঁচু প্রতিমা দেখতে ভিড় করেন জেলা তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। ২৮ অক্টোবর ধুমধাম করে পুজো শুরু হয় বাজার কালির। ১৫ দিনের মেলা শেষে রবিবার ছিল প্রতিমা বিসর্জন। প্রতিবছরের মতো এবছরও বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উৎসাহ ছিল সকলের। সব প্রস্তুতি সাড়াও হয়ে গিয়েছিল। রীতি মেনে সকাল এগারোটা নাগাদ প্রথমে ঘট বিসর্জন হয়। এরপর বিকেল তিনটে থেকে কালী প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই বিসর্জনে অংশ নিতে গিয়েছিলেন বুলবুলচন্ডীর আরবি পাড়ার বাসিন্দা পেশায় চা বিক্রেতা হারু সিংহ। বুলবুলচণ্ডী বাজারে তার চায়ের দোকান রয়েছে। এদিন বিকেল চারটে নাগাদ মন্দির থেকে কাঠামো সমেত প্রতিমাকে পাটাতনে চাপিয়ে তা প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ডুবাপারা মাঠের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানেই একটি পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হত। প্রতিমার আকৃতি বিশাল হওয়ায় পাটাতনের নিচে বাঁশ ও কাঠের গুড়ি দিয়ে ঠেলে ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল প্রতিমা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ডুবাপারা মাঠের আগে একটি সাঁকো পেরোতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে যায়। বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ সাঁকোটি পেরোনোর সময় অত্যধিক ভিড়ের চাপে টাল সামলাতে না পেরে কাঠামোর পাটাতনের নিচে পড়ে যান হারু বাবু। সাঁকোর জায়গাটিতে খানিকটা ঢাল থাকায় পাটাতন গড়িয়ে তার দেহের উপর দিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে যায় এলাকায়। ছুটোছুটিতে ভিড়ের চাপে অনেকে মাটিতে পরে যান। পরে হবিবপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনে। হারুবাবুকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বুলবুলচন্ডী হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখান থেকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য ভিড় সামলাতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা ছিল না। স্বভাবতই নিরঞ্জনের জন্য প্রতিমার কাঠামো টেনে নিয়ে যাওয়ার হিড়িক পড়ে যায় ভক্তদের মাঝে। ঠেলাঠেলিতে টাল সামলাতে না পেরে হারুবাবু  পাটাতনের নিচে চলে যান বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে ওই ঘটনার পরপরই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। কোনরকমে কালী প্রতিমা নিরঞ্জন করা হলেও বাতিল হয়ে যায় পূর্বনির্ধারিত আতশবাজির প্রদর্শনী। পুজো কমিটির সভাপতি প্রশান্ত রায় জানান, ‘হারু বাবু প্রতিবছরই সক্রিয়ভাবে পুজোয় অংশ নিতেন।এবছরও নিয়েছিলেন। এরকম ঘটনা ঘটবে আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমরা গভীর শোকাহত’।