বিগ্রহহীন মন্দিরে দেবতা নিয়ে বিতর্ক মালদায়

84

কল্লোল মজুমদার, মালদা : চারিদিকে আমবাগান। সবুজের হাতছানি। তার মাঝেই প্রায় ৪০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক মন্দির। গৌড়ীয় ইট দিয়ে তৈরি মন্দিরটির ইতিহাস বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গিয়েছে। প্রাচীন এই মন্দিরে আদপে সূর্যদেবতা না শিবের আরাধনা হত, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দ্বিমত আছে।

মালদা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার গেলেই দেখা মিলবে এই মন্দিরের। জনশ্রুতি আছে, মন্দিরটি সম্ভবত সূর্যদেবের। তবে জেলার ইতিহাস গবেষকদের মতে, এটি শিবের মন্দির। কিন্তু বিভ্রান্তির কারণ কি? আসলে মন্দিরে আজ কোনও বিগ্রহ নেই। কথিত আছে, মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই কোনও এক অজ্ঞাত কারণে মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়। ইতিহাসের অজানা অধ্যায়কে সামনে তুলে আনতে এই মন্দিরের সংরক্ষণ চান মালদার বিশিষ্টজনেরা।

- Advertisement -

মালদা শহরের কিছু দূরেই রয়েছে জহুরা কালীর মন্দির। এই মন্দির থেকে কয়েক পা এগোলে গোবিন্দপুর গ্রাম। সেখানেই এক আমবাগানের মধ্যে মন্দিরটি রয়েছে। বর্তমানে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে মন্দিরটি। রাস্তা থেকে বোঝার উপায় নেই, আমবাগানের মধ্যে পড়ে রয়েছে এক অজানা ইতিহাস। গিয়ে দেখা গেল, আমগাছ আর ইতিহাসের ছায়ায় বসে বিড়ি বাঁধছেন গ্রামের একদল মহিলা। তবে মন্দিরটি সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা নেই।

জনশ্রুতি আছে যে, অষ্টাদশ শতাব্দীর কোনও এক সময় মন্দিরটি গড়ে তোলা শুরু হয়। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হওযার আগেই মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়। ইতিহাস গবেষক কমল বসাক লিখে গিয়েছেন, দেবালয়টি দেখে বলা শক্ত যে, এটি কোন দেবতার মন্দির। কেনই বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মন্দিরটি, তাও জানা নেই কারও। এক দুয়ারি, পূর্বমুখী দেখে কেউ কেউ মনে করেন য়ে এটি সূর্য মন্দির। কিন্তু আমার তা মনে হয় না। পূর্ব ইতিহাস জানার একমাত্র উপায় স্থানীয় জনশ্রুতি। আবার তিনি লিখে গিয়েছেন, পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত মালদা জেলার মন্দিরগুলির মধ্যে এটি সর্বোৎকৃষ্ট। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে শহরের এত নিকটে থাকা সত্ত্বেও জাতীয় উদাসীনতার ফলে এমন একটি চমৎকার মন্দির আজ অবলুপ্তির পথে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির বিষয়ক গবেষক জয়া বিশ্বাসের মতে, ইটের গড়ন ও মন্দিরের দেওযাল ছবিতে দেখে যতটুকু বুঝছি, এই মন্দির চৈতন্য পরবর্তী যুগের। মন্দিরের নির্মাণশৈলীও সেই সাক্ষ্য বহন করছে। শূন্য গর্ভগৃহের আয়তাকার অবস্থান ও মন্দিরের চূড়া দেখে প্রাথমিকভাবে আন্দাজ হয়-আনুমানিক চারশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির। এটি শিবমন্দির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যুক্তিবোধ ও অনুমান বলে, মন্দিরটির সূর্য মন্দির হওযার সম্ভাবনা কম। কেননা, প্রাতিষ্ঠানিক সূর্যপুজোর চল ওই সময়ে বঙ্গদেশে ছিল না। এছাড়া কাছেই জহুরাচণ্ডীর প্রাচীন শক্তিপীঠ অবস্থিত হওযার ফলে শিবমন্দিরের সম্ভাবনাটিই জোরালো হয়ে ওঠে।