পাম্প থেকে ধারে ডিজেল, দেনা বাড়ছে পরিবহণ নিগমগুলির

225
প্রতীকী ছবি।

স্বরূপ বিশ্বাস, কলকাতা : বাস চালিয়ে ডিজেল কেনার টাকা উঠছে না উত্তরবঙ্গ সহ সরকারি পরিবহণ নিগমগুলির। দেনা বাড়ছে ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো তেল কোম্পানিগুলির কাছে। আপাতত ধারেই পেট্রোল পাম্পগুলি থেকে ডিজেল তুলতে হচ্ছে নিগমগুলিকে। লকডাউনের বাজারে ধারের পরিমাণ এখনই কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। নিত্যদিন ধার বাড়ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু জেলায় পেট্রোল পাম্পগুলি ধারের টাকা পেতে তাগাদাও শুরু করেছে। নিগমগুলির তরফে সেই বার্তা রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরেও এসে পৌঁছেছে।

এই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দপ্তরের। প্রশ্ন উঠেছে, কতদিন এইভাবে ধারবাকিতে চলবে? মাঝেমধ্যে কিছু টাকা মেটাতে না পারলে পেট্রোল পাম্পগুলি সরকারি বাসে ডিজেল দেওয়া বন্ধ করলে কী হবে? দপ্তরের জনৈক শীর্ষ আধিকারিক জানালেন, আমরা পরিস্থিতির কথা সরকারকে জানিয়েছি। অর্থ দপ্তরকেও বলা হয়েছে। বিশেষ আর্থিক সহায়তা ছাড়া সরকারি বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না নিগমগুলির পক্ষে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে কম যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে, তাতে ডিজেল খরচ উঠছে না প্রায় কোনও রুটেই। বাকিতেই পেট্রোল পাম্পগুলি থেকে ডিজেল তুলতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দরকার সরকারি বাসের জন্য। এখনও অর্থ দপ্তর থেকে এই ব্যাপারে কোনও সাড়া মেলেনি। আমরা অপেক্ষায় আছি।

- Advertisement -

প্রতিদিন সরকারি বাস চালিয়ে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে নিগমগুলির। ক্ষতির পরিমাণ জানাচ্ছে নিগমগুলি পরিবহণ দপ্তরকে। শুধু জুন মাসেই ডব্লিউবিটিসি (সিএসটিসি, সিটিসি ও ভূতল পরিবহণ একত্রে)-এর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। চলতি মাসে এই পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমেরও ক্ষতি চার কোটি ছাড়িয়েছে। কর্মীদের মাসিক বেতনের ২৫ শতাংশ নিগমগুলির রোজগার থেকে দেওয়ার কথা। নিগমের কর্মচারীদের মাসমাইনে মেটাতে বাধ্য হয়ে অর্থ দপ্তর একশো শতাংশ টাকাই জুগিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের বেতনও হয়েছে নিগমের কর্মচারীদের।