বাঁ পায়ে পচন, চিকিৎসার দ্বায়িত্ব নিতে নারাজ রায়গঞ্জ মেডিকেল কর্তৃপক্ষ

88

রায়গঞ্জ: বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত দগদগে ঘা। পুঁজ আর রক্ত গড়াচ্ছে। পিঁপড়ের সারি দিয়ে নামছে ৩৫ বছরের ব্যক্তির শরীরের পাশ দিয়ে। এহেন রোগীর দিকে ফিরে না তাকিয়ে কেউবা মেডিকেল কলেজে রোগী দেখাতে আসছেন কেউ আবার করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। রোগীর পরিজনদের ভিড় থাকলেও কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না ওই ব্যক্তির দিকে। প্রায় তিন দিন ধরে পরে রয়েছেন ওই গাড়ি চালক। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনেই পড়ে রয়েছেন ওই ব্যাক্তি। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাঁর ড্রেসিং করার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, গোড়ালি কেটে বাদ দিতে হবে। সমস্ত অংশ পচে গিয়েছে। মেডিকেল কলেজে সেই যন্ত্র নেই। তাই অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম নয়ন মোহন্ত(৩৫)। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরামের বাসিন্দা। পেশায় গাড়িচালক। পরিবারে কেউ নেই। নয়নবাবুর দাবি, বিহারের পূর্ণিয়া মোর এলাকায় ট্রাক থেকে মালপত্র নামানোর কাজ চলছিল। সেই সময় ভারী জিনিস নামাতে গিয়ে বাঁ পায়ের উপর পড়ে যায়। জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা থেমে যায়। এদিন পায়ের ড্রেসিংয়ের ব্যবস্থা করা হলেও বাঁ পা ক্রমশই পচনের মুখে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা এদিন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা করার দাবি জানান।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘অন্য মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে ফলে আমরা এই বিষয়ে দায়িত্ব নিতে পারব না।‘