করোনা সংক্রমণ এড়াতে রাঙ্গালিবাজনায় ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত 

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: করোনা সংক্রমণ এড়াতে সাতদিন ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির ব্যবসায়ীরা। চৌপথিতে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁরা  বৈঠক করে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বশির আহমেদ বলেন, দোকানপাট বন্ধ না রাখলে রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে জন সমাগম বন্ধ হবে না। তাই আমরা ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যবসায়ী পার্থ বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার থেকে সবজি, মাছ-মাংস, মুদি থেকে শুরু করে এক সপ্তাহব্যাপী রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। করোনা এড়াতে এছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির দু’কিলোমিটার দূরে ইসলামাবাদ গ্রামে রয়েছে একটি কনটেনমেন্ট জোন ও একটি বাফার জোন। আবার, শিশুবাড়ির কাছে রয়েছে একটি কনটেনমেন্ট জোন ও একটি বাফার জোন। ওই এলাকাগুলি থেকে রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে লাগাতার লোকজন কেনাকাটা করতে আসছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

কয়েকদিন ধরে মাদারিহাটে লকডাউন চলাকালীন মাদারিহাটের অনেক বাসিন্দাই রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে বাজার করতে গিয়েছেন বলেও জানান তাঁরা। মঙ্গলবার থেকে রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির দোকানপাটে কেনাকাটা করতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে, সাতদিন দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিরই বেশ কিছু ব্যবসায়ী। চা মিষ্টির দোকানদার বাবুল রায় বলেন, এমনিতেই লকডাউন চলাকালীন দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। তার ওপর আবার সাত দিন দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। আমাদের রুজির সংস্থান করা মুশকিল হয়ে পড়ছে।

ফল বিক্রেতা বাবুল হোসেন বলেন, এক সপ্তাহে দু’দিন সরকারিভাবে লকডাউন থাকছেই। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে তিনদিন দোকান বন্ধ রাখা যেত। কিন্তু সাতদিন বন্ধ রাখলে বিরাট লোকসান হবে। মাছ বিক্রেতা গোলাম রব্বানি, মাংস বিক্রেতা রবিদুল ইসলাম প্রমুখ জানান, সাত দিন দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তাঁরা সহমত নন।