দেখা নেই দীপার, ভোটের আগে হতাশ কংগ্রেস কর্মীরা

225

ইসলামপুর : দুয়ারে কড়া নাড়ছে ভোট, অথচ জেলায় দেখা যাচ্ছে না দীপা দাশমুন্সিকে। ফলে কার্যত হতাশ উত্তর দিনাজপুরের কংগ্রেসের নীচুতলার কর্মীরা। একদা কংগ্রেসের শক্ত গড় ছিল উত্তর দিনাজপুর। তৃণমূল জমানায় কংগ্রেসের সেই দুর্গ এখন ধূলিসাৎ। তবু নির্বাচনে জেলায় প্রিয় আবেগ বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু প্রিয়রঞ্জন-পত্নী দীপা দাশমুন্সিকে এখনও জেলায় দেখতে না পাওয়ায় হতাশ দলের সমর্থক ও বুথস্তরের কর্মীরা। যদিও উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি পবিত্র চন্দ বলেন, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির নীতি-আদর্শে আমরা বিশ্বাস করি। তাঁকে স্মরণ করেই আমরা প্রচারে নামব। প্রিয়দার পর দীপাবৌদি রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। তিনি সাংসদ থাকাকালীন এলাকার প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তেমন উন্নয়নের কাজ হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আমরা দলগতভাবে নানা পরিকল্পনা নিয়েছি। আশা করি, দীপাবৌদিও আসবেন। তিনি জেলা নেতৃত্বের কাছে সংগঠনের নিয়মিত খোঁজখবর নেন।

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও সব দলই এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। একসময়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল। তার অন্যতম কারিগর ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। এখন তাঁর অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে জেলা কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের মতে, নীচুতলার কংগ্রেস কর্মীদের সেভাবে উদ্বুদ্ধ করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রিয়-পত্নীর উপস্থিতিই একমাত্র তাঁদের চাঙ্গা করতে পারে। গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে দীপাদেবীকে সেভাবে জেলায় দেখা যায়নি। ফলে একদা প্রিয়রঞ্জন ও দীপা দাশমুন্সির রাজনৈতিক কর্মভূমিতে ধীরে ধীরে কংগ্রেসের রাশ আলগা হয়েছে। জেলায় মুখ্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে একদা কংগ্রেসের এই ঘাঁটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় কংগ্রেসের পুরোনো শক্তি ফিরে পেতে শক্ত হাতে হাল ধরুন দীপাদেবী, এমনটাই চাইছেন নীচুতলার কর্মীরা। জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, দীপা দাশমুন্সি ব্যক্তিগত কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে একটু দূরে রয়েছেন। করোনার দাপট তো রয়েছেই। পাশাপাশি, তাঁদের একমাত্র সন্তান ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করে। সেখানেও করোনা মারাত্মক। এ নিয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তবে তিনি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের আসবেন এবং  নির্বাচনি প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এ নিয়ে কর্মীদের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।

- Advertisement -