উধাও দীপা, ভোটের আগে উদ্বেগ উত্তর দিনাজপুরের কংগ্রেসে

226

রায়গঞ্জ: দীপা কোথায়? সেই প্রশ্ন এখন বিরোধীদের নয় খোদ কংগ্রেসের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির অসুস্থতার পর দলের হাল ধরেছিলেন স্ত্রী দীপা। রায়গঞ্জ থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এমনকি তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু একবার ভোটে জিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর সেই যে তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন এরপর ভোট এলেই ভোট পাখিদের মতন তাঁকে দেখা গিয়েছে, তারপর আবার উধাও।

সামনেই বিধানসভা ভোট প্রিয়র খাস তালুকে যার হাল ধরার কথা তাঁকে খুঁজেই পাচ্ছেন না রায়গঞ্জবাসী। এতে হতাশ দলের নিচুতলার কর্মীরা। তাঁরা অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক সংকট। বিজেপি তৃণমূল যেভাবে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি থেকে শুরু করে জীবন জীবিকাকে একটি দুর্বিষহ জায়গায় কেন্দ্র-রাজ্য মিলে পৌঁছে দিয়েছে, সেখানে এক সময় কংগ্রেসের সুশাসনের কথা এখন ভাবায়। যাঁর দলের হাল ধরার কথা তাঁর কেন দেখা নেই, সেই প্রশ্ন কিন্তু এখন দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাহলে কি বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস শুধু নামকে-ওয়াস্তে ফাইট করতে চায়। নাকি লড়াই থেকে সরে থাকতে চায় সেই নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন।

- Advertisement -

একসময় দীপা দাশমুন্সিকে আশীর্বাদ করে তাঁকে সাংসদ নির্বাচিত করেন তারপর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন। দীপার হাত ধরে একসময় মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল যে, রায়গঞ্জ শহরে এইমস হবে। তিনি বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা ফলপ্রসূ হয়নি। রায়গঞ্জের এইমস তৃণমূল ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে কল্যাণীতে। ফলে একদিকে যেমন উন্নত চিকিৎসার বঞ্চনায় বিদ্ধ হয়েছে রায়গঞ্জবাসী। অপরদিকে, তার জবাব দেওয়ার জন্য বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দরকার। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে আরও হতাশ উত্তর দিনাজপুরের মানুষ। অনেকেরই প্রশ্ন আজ প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি জীবিত থাকলে রায়গঞ্জের মানুষের এই দুর্দশা দেখতে পারতেন না। তিনি নিজেকে সামনে রেখে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই আজ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকেও চাপে পড়তে হত পাশাপাশি বিজেপিকেও এখানে দাঁত খোটাতে দিতেন না‌ সকলের ‘প্রিয়’ প্রিয়দা।

গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামেরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করলেও রায়গঞ্জে কিন্তু সেই বামের সঙ্গে কংগ্রেসের ঐক্যবদ্ধ ছবি দেখা যায়নি। এবারে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। যদিও বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের যোগ প্রক্রিয়া উচ্চস্তরের শুরু হয়েছে। কিন্তু উত্তর দিনাজপুরে সেই জোট প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে সেটা কিন্তু এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। কারণ এখানে গত লোকসভা নির্বাচনে একদিকে যেমন দীপা প্রার্থী হয়েছিলেন অপরদিকে, বামেদের মহম্মদ সেলিমও প্রার্থী হয়ে গো-হারা হেরেছিলেন। ফলে পরাজয়ের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করতেও কেউ ছাড়েননি। প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে। সামনের বিধানসভার নির্বাচন ছাড়াই লড়বে সেই প্রশ্নই এখন জনমানুষে ঘোরাঘুরি করছে। দীপা কি রাজনৈতিক সন্ন্যাসে চলে যাবে নাকি ভোট পাখিদের মতন তাঁর দেখা মিলবে। সেকথাও সমালোচকরা বলতে ছাড়েননি।

কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি পবিত্র চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘উনি ব্যস্ত রয়েছেন। এর মধ্যেই ভোট প্রচারে আসবেন। ছেলের পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিয়ে আসতে পারেননি।’