শ্রবণশক্তিহীনদের জন্য মাস্ক তৈরি করে তাক লাগালেন দীপক

364

সুভাষ বর্মন ফালাকাটা : এ এক বিশেষ ধরনের মাস্ক। এটি পরলে ঠোঁট ও মুখের একাংশ দেখা যায়। তাই ঠোঁট ও মুখের ইশারায় একজনের কথা আরেকজন শ্রবণশক্তিহীন মানুষ খুব সহজেই তা বুঝতে পারেন। তিনি নিজে শ্রবণশক্তিহীন। তাই নিজের মতো বাকিদের সমস্যাটাও তিনি ভালোই বুঝেছেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাস্ক খুবই জরুরি হলেও শ্রবণশক্তিহীনদের জন্য হয়তো এখনও বিশেষ ধরনের মাস্ক তৈরির কথা কেউ ভাবেননি। স্বাস্থ্য দপ্তর, এমনকি সরকারিভাবেও এই আলাদা ধরনের মাস্ক তৈরি করা হয়নি। সেকথা ভেবেই ফালাকাটার শ্রবণশক্তিহীন যুবক দীপক শৈব পৃথক এই ধরনের বিশেষ মাস্ক তৈরি করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি রাজ্যে প্রথম এই বিশেষ ধরনের মাস্ক বানালেন।

সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি এই মাস্কের মাঝামাঝিতে রয়েছে এক ধরনের প্লাস্টিক। এই মাস্ক পরলে ঠোঁট ও মুখের একাংশ দেখা যায়। যার ফলে একজনের ঠোঁট ও মুখের ইশারা আরেকজন শ্রবণশক্তিহীন মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে এই বিশেষ মাস্ক তৈরি করে দীপক নিজেও ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি, শ্রবণশক্তিহীনদের জন্য আরও ৩০০ মাস্ক তৈরির বরাত পেয়েছেন ওই যুবক। ফালাকাটা ব্লকের ধনীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নরসিংহপুরে বাড়ি দীপক শৈবর। বছর ২২-এর ওই যুবক জন্মসূত্রে শ্রবণশক্তিহীন। তাঁর বাকশক্তিও নেই। খগেনহাট ওয়েলফেয়ীর অর্গানাইজেশনের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা শিখেছেন দীপক। এখন ওই সংস্থারই বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের শিক্ষক তিনি।

- Advertisement -

করোনা পরিস্থিতিতে মাস্কের প্রয়োজনীয়তা সবচেযে বেশি। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সবাই যে মাস্কগুলি পরছেন তা শ্রবণশক্তিহীনদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাভাবিক মাস্ক পরলে ঠোঁট এবং মুখের একাংশ পুরোপুরি ঢাকা থাকছে। শ্রবণশক্তিহীন ব্যক্তিরা একমাত্র মুখ ও ঠোঁটের ইশারায় কথা বলেন। তাই স্বাভাবিক মাস্কে তাঁদের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্টারনেট ঘাঁটতে শুরু করেন দীপক। শ্রবণশক্তিহীনদের জন্য বিদেশে তৈরি বেশ কিছু মাস্কের ছবি ইন্টারনেটে দেখে নিজেই সেরকম মাস্ক তৈরি করা শুরু করেন। এজন্য খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন যুবককে সহায়তা করে। খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন থেকে সুতির কাপড় ও প্লাস্টিক কিনে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার অফিসের সেলাই মেশিনে ওই মাস্কগুলি তৈরি করছেন দীপক।

এদিন মুখ ও ঠোঁটের ইশারায় দীপক আক্ষেপ করে বলেন, সরকার আমাদের কথা ভাবেনি। কোনও সংস্থাও আমাদের জন্য বিশেষ মাস্ক তৈরি করেনি। তাই কম্পিউটারে বিদেশের ছবি দেখে এভাবে মাস্ক তৈরি করছি। ৩০০ মাস্ক তৈরি হলে এলাকার শ্রবণশক্তিহীনদের বিলি করা হবে। সংস্থার কর্ণধার লক্ষ্মীকান্ত রায় বলেন, দীপক শৈব অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্ভবত, রাজ্যের মধ্যে প্রথম শ্রবণশক্তিহীনদের জন্য এরকম মাস্ক তৈরি হল। এটাকে ভিজুয়াল মাস্ক বলা হয়। আমাদের সংস্থার তরফে সবরকমের সহায়তা করা হচ্ছে। ভিজুয়াল মাস্কগুলি তৈরি হলে ব্লকের ৩০০ জনকে তা বিলি করা হবে।