মৃত অজগরের পেটে হরিণ, চাঞ্চল্য কুমারগ্রামে

কুমারগ্রাম: রায়ডাক নদী থেকে বিশালাকার মৃত অজগর উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় কুমারগ্রামের চ্যাংমারি অঞ্চলের হাগুরাপাড়ায়।

এদিন বিকেলে রায়ডাক নদীতে বিশালাকার অজগর ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বনকর্মীদের খবর দেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ভল্কা রেঞ্জের বনকর্মীরা। সেটিকে উদ্ধারের পর দেখা যায়, প্রায় ১২ ফুট লম্বা অজগরের পেট অস্বাভাবিক রকমের ফুলে আছে।

- Advertisement -

এনিয়ে নদীর পাড়ের কৌতূহলী বাসিন্দাদের মধ্যে তো বটেই, উদ্ধারকারী দলে থাকা বনকর্মীদের মধ্যেও অজগরের মৃত্যু রহস্য নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। বিষয়টি পাঁচকান হতেই বিশালাকার অজগর দেখতে রায়ডাক নদীর পাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সময় নষ্ট না করে বনকর্মীরা মৃত অজগরটি গাড়িতে চাপিয়ে দ্রুত রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পদস্থ কর্তাদের। এডিএফও সাহেবের নির্দেশে কামাখ্যাগুড়ি মোবাইল রেঞ্জ থেকে দুজন পশু চিকিৎসক ময়নাতদন্তের জন্য ভল্কা বারবিশা রেঞ্জ অফিসে পৌঁছান।

মৃত অজগরের পেট কাটতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আংশিক পরিপাক হওয়া একটি হরিণ। এদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত অজগরের মৃত্যু নিয়ে এদিন স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি বনদপ্তরের আধিকারিকরা ।

ভল্কা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খবর পেয়ে দ্রুত মৃত অজগরটিকে উদ্ধার করা হয়। সেটির পেটে একটি হরিণ পাওয়া গিয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে মৃত্যুর কারণ জানতে অজগরটির ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, সম্ভবত হরিণ শিকারের পর জঙ্গল লাগোয়া রায়ডাক নদীর ধারেই পরিপাকের জন্য বিশ্রাম নিচ্ছিল অজগরটি। পাহাড় এবং সমতলে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর জল অনেকটাই বেড়েছে।

তিনি জানান, নদীর জল বাড়লেও আনুমানিক ১৫ কিলোগ্রামের হরিণ গিলে নড়াচড়া করতে পারেনি অজগরটি। ফুঁসতে থাকা রায়ডাকের অথৈ জলে ভেসে যায় সে এবং মারা পড়ে। আবার হরিণের শিং লেগে অজগরের পেট ফুটোও হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।