বিকল আরটিপিসিআর মেশিন, সংক্রামিতদের রিপোর্ট পেতে দেরি, আশঙ্কা

77
ফাইল চিত্র

রায়গঞ্জ: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তর দিনাজপুর জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে গত পাঁচ দিন ধরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের পরীক্ষার একটি আরটিপিসিআর মেশিন বিকল হয়ে রয়েছে। ফলে সেই থেকে বাসিন্দাদের লালা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে করোনা আক্রান্তদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা চরমে উঠেছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং দুটি বেসরকারি নার্সিংহোমে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘আরটিপিসিআর যন্ত্রটি মেরামত করা হয়েছে। সোমবার থেকেই চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উত্তর দিনাজপুর জেলায় সংক্রমণ কেন রোখা যাচ্ছে না এবিষয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের একাংশের দাবি, লালা পরীক্ষার চাপ বাড়লেও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ল্যাবরেটরিতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ হয়নি। পাশাপাশি, কখনও আরটিপিসিআর মেশিন বিকল আবার কখনও পাহাড় প্রমাণ লালা পরীক্ষা করাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেকারণে রিপোর্ট আসতে দেরি হচ্ছে। অনেকেই বুঝতে পারছেন না আদৌ তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কি না। ফলে রিপোর্ট আসার আগে পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত অনেকেই পরিবার পরিচিতদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। যার ফলে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও সেফহোম মিলিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের শয্যা রয়েছে ৫৮৫টি।

- Advertisement -

এখনও জেলার ইটাহার ও ইসলামপুর বাদে বাকি ৭টি ব্লকে সেফ হোম চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও সেফ হোমে শয্যার অভাবে উপসর্গ থাকা বহু করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাদের থেকেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা করোনা আক্রান্তরা দাবি মেনে পরিবারের লোকেদের থেকে আলাদা পরিকাঠামোয় থাকছেন কিনা সেবিষয় নজরদারি চালানোর মত স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিকাঠামো নেই। সেসঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও এখনও পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিবির করে বাসিন্দাদের লালা পরীক্ষার কাজও(কমিউনিটি টেস্ট) শুরু হয়নি। এসব কারণেই জেলাজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণ ঢুকতেও সংক্রামিতদের চিকিৎসার ব্যাপারে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’