করোনার জেরে বেহাল ক্যানসার চিকিৎসা রোগীরা বিপাকে

302

কলকাতা : করোনা চিকিৎসাতেই এখন ব্যতিব্যস্ত সব হাসপাতাল। ফলে অন্যান্য রোগীদের পাশাপাশি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্যানসার রোগীরা। কোনও হাসপাতাল কেমোথেরাপি পিছিয়ে দিচ্ছে, তো কোনও হাসপাতাল জরুরি অপারেশন স্থগিত করে দিচ্ছে। এতে কিছু রোগীর সেরে ওঠা যেমন পিছিয়ে যাচ্ছে, তেমনই কিছু রোগীকে মৃত্যুপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কলকাতার ক্যানসার চিকিৎসার কেন্দ্রগুলিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অপারেশন অন্য সময়ে তুলনায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। ক্যানসার হাসপাতালগুলি তাদের রোগীদের নিয়ে বেশ চিন্তিত। কারণ, ক্যানসার রোগীদের তুলনামূলকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই অপারেশন থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। চিকিত্সা করাতে চাইলেও যানবাহনের অভাবে ক্যানসার রোগীদের অনেকেই হাসপাতালে আসতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই শহরের দুটি ক্যানসার হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরপুকুরের সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অধিকাংশ রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে। টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার তাদের বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারান্টিনে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালের একটি ক্যানসার ইউনিট রয়েছে। তারা সব অপারেশন পিছিয়ে দিয়েছে। সবাইকে বলেছেন পরের মাস অবধি অপেক্ষা করতে।

হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালেও ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেশ কমে গিয়েছে। হাসপাতালের জোনাল ডিরেক্টর আর ভেঙ্কটেশ বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে যাঁরা আসতে পারছেন না আমরা তাঁদের জন্য অনলাইন আউটডোর ব্যবস্থা চালু করেছি। যাঁদের ফলো আপ চিকিৎসা প্রযোজন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হচ্ছে। জরুরি অপারেশন সবই আমরা করছি। করোনা উপসর্গ পরীক্ষা করে আমরা ভর্তি নিচ্ছি। যাঁদের করোনার কিছু উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের ১৪দিন অপেক্ষা করতে বলছি। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলি একান্ত জরুরি বাদে বাকি সব ক্যানসার সংক্রান্ত অপারেশন আপাতত বন্ধ রেখেছে। কেমোথেরাপি গড়ে ২-৩ সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালের অঙ্কোলজিস্ট গৌতম মুখোপাধ্যায়ে বক্তব্য, কেমোথেরাপি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়াও বিপজ্জনক। কিন্তু স্বাস্থ্য ও সহায়ককর্মী আমাদের এত কম যে, এছাড়া কোনও উপায় নেই। অসুবিধা আরও আছে। ওষুধের সরবরাহ কম। রোগীরাও হাসপাতালে আসতে পারছেন না। ক্যানসার সার্জারির শিক্ষক দীপ্তেন্দ্র সরকারের মতে, এভাবে চিকিৎসা পিছিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ভয়ানক ব্যাপার। এর ফলে রোগীরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যাবেন।

- Advertisement -