পুরোনো রাগ থেকেই সাগরকে মার সুশীলের

নয়াদিল্লি : ঘর খালি করে দেওয়া নিয়ে বচসার জেরে রাগের মাথায় সাগর ধনখড়কে মারধর করেননি সুশীল কুমার। দুপক্ষের পুরোনো শত্রুতার জেরে সঙ্গীদের নিয়ে প্ল্যান মাফিক এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন অলিম্পিকে জোড়া পদকজযী এই তারকা। তরুণ কুস্তিগিরের খুনের তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেয়েছে দিল্লি পুলিশ।

সুশীলের বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের বড় হাতিয়ার গ্যাংস্টার কালে জাঠেডির ভাইপো সোনু মাহাল। ওই রাতে সাগর ও সোনু সহ ৫ জনকে অপহরণ করেন সুশীলরা। এদের মধ্যে তিন জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সাগর ও সোনুকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। দিল্লি পুলিশের এক কর্তার দাবি, জবানবন্দীতে সোনু অনেক তথ্য জানিয়েছে। সোনুর দাবি অনুযায়ী, ছত্রশাল স্টেডিয়ামের আখড়া থেকে সাগরের মদতে ৫০-৬০ জন কুস্তিগির অন্য আখড়ায় চলে যান। এই ঘটনায় সুশীল এমনিতেই রেগে ছিলেন। এরমধ্যে মডেল টাউনের ফ্ল্যাট নিয়ে বিতর্ক রাগের বারুদে আগুন দেয়। ওই ফ্ল্যাট ছাড়া নিয়ে প্রকাশ্যেই সুশীলের বিরোধীতা করেন সাগর।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, এরপরই ৪ মে গ্যাংস্টার নীরজ বাভানার লোকদের নিয়ে সাগরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করেন সুশীল। প্রথমে দিল্লির বাইরে থেকে রবিন্দর ও অমিত নামে দুইজনকে তুলে আনা হয়। তাদের থেকে ঠিকানা জেনে মডেল টাউনের ফ্ল্যাট থেকে সাগর, সোনুর সঙ্গে ভগত নামে আরও একজনকে অপহরণ করে স্টেডিয়ামে আনা হয়। ভগতের স্ত্রী পুলিশে খবর দেওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সাগর ও সোনুকে মারধর করা হয়। এমনকি সুশীল সোনুর দুই হাত ভেঙে দেন বলেও অভিযোগ। পরের দিন হাসপাতালে সাগরের মৃত্যু হয়। এরপরই সুশীলের নামে খুনের মামলা শুরু হয়।

অন্যদিকে, সুশীলের জেল হেপাজতের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ল। শুক্রবার তাঁকে মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট রীতিকা জৈনের এজলাসে পেশ করা হয়। অন্যদিকে, এই মামলায় অনিরুদ্ধ নামে এক কুস্তিগিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করে পুলিশ। বিচারকের কাছে তদন্তকারীরা ৭ দিনের পুলিশ হেপাজত চাইলেও ৪ দিনের জন্য আবেদন মঞ্জুর করা হয়। পুলিশের দাবি, তাকে নিয়ে জম্মুতে তদন্তে যাওয়া হবে। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারির সময় এক পরিচিতার স্কুটি ব্যবহার করছিলেন সুশীল। এই মামলায় ওই মহিলার ভূমিকাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।