বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে নয়া নিষেধাজ্ঞা

642

নয়াদিল্লি: ইউরোপের পথেই কী তবে হাঁটছে ভারত? লকডাউন কাটিয়ে সবেমাত্র আনলক পর্বের কয়েক ধাপে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে দেশের পরিস্থিতি, এমতাবস্থায় ফের কয়েক কদম পিছোতে হচ্ছে দেশকে।

গোটা দেশে যে পূর্ণ চেহারায় লকডাউন ফিরছে, তা নয়। তবে, দিল্লি, মুম্বই, জয়পুর, আহমেদাবাদ, ইন্দোরের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর লকডাউনের পথই অনুসরণ করতে চলেছে। তবে আগের মতো দোকান, ব্যবসা বন্ধ করে পুরোপুরি বনধ নয়। তবে, কোভিড বিধি মেনে যা হতে চলেছে, তা লকডাউনেরই নামান্তর। এক-একটি শহর সেখানকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এক একরকমভাবে লকডাউন করবে।

- Advertisement -

করোনা সংক্রমণের গ্রাফ দেখলে ভারতে করোনায় অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা কমছে। কয়েকদিন ধরে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যাও বেশি, তবে কিছু কিছু জায়গায় সেদিক দিয়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে করোনা সংক্রমণ আগের তুলনায় যথেষ্ট বেশি, যার মধ্যে রয়েছে দিল্লি। গুরগাঁও, মুম্বই, আহমেদাবাদ, ইন্দোর ও জয়পুরও কেন্দ্রের মাথাব্যথার কারণ। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবশ্য দাবি, রাজধানীবাসী সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামাল দিচ্ছে। দৈনিক সংক্রমণে দিল্লি অনেক আগেই মহারাষ্ট্র, কেরলকে পিছনে ফেলেছে।

কোন শহরে কিভাবে লকডাউন ফিরছে, তারই একঝলক:

দিল্লিতে মুখে মাস্ক না-পরলে ৫০০০ টাকার জরিমানা ধার্য করা হবে। বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে ৫০ জন অতিথি পর্যন্ত ছাড় মিলবে। তবে, উপার্জনের রাস্তা একেবারে বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের নতুন করে চাপে ফেলতে চান না কেজরিওয়াল। তাই মার্কেট খোলা থাকবে। তবে কড়াকড়ি থাকছে।

গুরগাঁওয়ে স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যে ১৭৪ পড়ুয়া এবং ১০৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা করোনায় আক্রান্ত হন। তড়িঘড়ি রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছে হরিয়ানা সরকার। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ থাকবে সেখানে।

মুম্বইয়ে বৃহন্মুম্বই পুরসভার আওতায় যে সমস্ত স্কুল রয়েছে, তার একটিও এই বছর খুলবে না। মহারাষ্ট্র সরকার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসনের উপর ছেড়েছে। থানেও ঘোষণা করেছে চলতি বছর স্কুল খোলার আর অনুমতি দেওয়া হবে না।

আহমেদাবাদে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে কার্ফিউ জারি করা হয়েছে। চলবে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত। একমাত্র দুধ ও ওষুধের দোকানে ছাড় রয়েছে। ২৩ নভেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলছে না। রাজকোট, সুরাত, ভডোদরায় শনিবার থেকে রাতে কার্ফিউ জারি করা হয়েছে।

ইন্দোরে ২১ নভেম্বর, শনিবার, থেকে চালু নাইট কার্ফিউ। জরুরি পরিষেবা-এর আওতাভুক্ত নয়। কারখানা শ্রমিকদের ছাড় রয়েছে। ইন্দোর ছাড়াও ভুপাল, গোয়ালিয়র, বিদিশা, রতলমে রাতে কার্ফিউ থাকছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানান, সামগ্রিকভাবে রাজ্যে লকডাউন হবে না।

জয়পুর শনিবার থেকে রাজস্থানের সমস্ত জেলা ১৪৪ ধারার আওতায় থাকবে।