নয়াদিল্লি, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ ৩৪০ জন সাংসদ-মন্ত্রীকে মাঠে নামিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। দশটির বেশি কেন্দ্রে প্রচার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধর্মীয় মেরুকরণ করতে চেয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে প্রচার চালিয়েছিলেন অমিত। তবুও দিল্লি বিধানসভার কুর্সি বিজেপির দখলে এল না। পাঁচ বছর আগের মতোই ফের ৯০ শতাংশের বেশি আসন দখলে রেখে দিল্লি দখলে রাখল আম আদমি পার্টি (আপ)। দিল্লির মাটিতেই অমিত শা’কে হারিয়ে দিলেন কেজরি। সাম্প্রতিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, ৭০ আসনের বিধানসভায় ৬৩টি আসনে এগিয়ে বা জয়লাভ করেছে আপ। গতবারের থেকে মাত্র চারটি আসন বাড়িয়ে ৭টিতে আটকে রয়েছে বিজেপি। কংগ্রেসের ঝুলি গতবারের মতোই শূন্য।

৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর সবকটি এক্সিট পোল জানিয়েছিল, দিল্লির ক্ষমতায় ফের আসতে চলেছেন কেজরি। তবে বিজেপির তরফে বারবার বলা হচ্ছিল, এক্সিট পোলের হিসাব মিলবে না। দিল্লি বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেছিলেন, তাঁরা ৪০টি বেশি আসন পাবেন। মঙ্গলবার গণনা শুরুর আগে ৪৮ থেকে ৫৫টি আসন পাবেন বলে ঘোষণা করেন মনোজ। কিন্তু ফল ঘোষণার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল আপ। তবে দশটার পর কিছুটা পর পাল্লা দিয়ে লড়াই করছিল বিজেপি। সেই সময় ২২-২৩টি আসনে এগিয়ে ছিল পদ্মশিবির। পিছিয়ে পড়ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া, আতিশি মারলেনার মতো আপের হেভিওয়েট প্রার্থীর। কিন্তু বেলা বাড়তেই ফের আপের দিকে খেলা ঘুরতে থাকে। ক্রমশ ৫০টির বেশি আসনে এগিয়ে যান আপ প্রার্থীরা। দুপুরের পর সেই সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যায়, বিজেপির আসন সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে আসে। পিছিয়ে থেকেই জয় পান মণীশ শিশোদিয়া, আতিশি। একই সঙ্গে জিতেছেন রাঘব চাড্ডা, আমানাতুল্লা খানের মতো আপ নেতারা। হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী কপিল মিশ্র, তাজিন্দর সিং বাগ্গা, কংগ্রেস প্রার্থী অলকা লাম্বা।

জয়ের পর দিল্লির বাসিন্দাদের অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘দিল্লি ওয়ালো, গজব কর দিয়া আপ লোগো নে, আই লাভ ইউ’। জয়ের জন্য কেজরিকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপের এই জয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে জয় বলেও মমতা মন্তব্য করেন।