ঝুঁকি নিয়ে ডিমা নদী পার হচ্ছেন বনচুকামারির বাসিন্দারা

511

অসিত কর, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া বনচুকামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ঘাগরা এলাকায় রয়েছে ডিমা নদী। নদী পেরোনোর জন্য একমাত্র ভরসা সাঁকোটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাকা সেতু তৈরির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কিন্তুই তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২৫ বছর আগে এই নদীর উপর কাঠের সেতু তৈরি হয়েছিল। এরপর বন্যায় কাঠের সেই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে সেতুটি সংস্কার করা হয়। এখন সেখানে কাঠের সেতুর কাঠামোর উপর বাঁশের সাঁকো রয়েছে। কিন্তু সেটি মজবুত নয়। ওই সাঁকো পারাপার করে শহরের ৯ নম্বর ওযার্ড দিয়ে সহজে যাতায়াত করা যায়। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ গ্রাম থেকে ওই পথে শহরে যাতায়াত করেন। ঝুঁকি নিযে এই দুর্বল সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। হেঁটে বা সাইকেল নিয়ে সাবধানে পারাপার হতে হয়। বর্ষাকালে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। প্রতি বছর সেতু থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে জখম হন অনেকে। যে কোনও সময বড়ো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নিযে যাতায়াত করেন নিত্যযাত্রীরা। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা পাকা সেতু তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। অথচ আজও সেই দাবি পূরণ হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
স্থানীয বাসিন্দা শম্পা রায় বলেন, ঘাগরা, বনচুকামারি সহ একাধিক গ্রামের লোকজন এই রাস্তা দিয়ে সহজেই শহরে পৌঁছে যেতে পারেন। মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের নিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। শহরের ৯ নম্বর ওযার্ডের বাসিন্দা সুজিত দাস বলেন, বর্যাকালে বন্যার জল সাঁকোর উপর দিয়ে বযে যায়। তখন নদী পারাপারে সমস্যা হয়। আমরা চাই দ্রুত পাকা সেতুর দাবি পূরণ করা হোক।
বনচুকামারি গ্রাম পঞ্চাযে প্রধান পায়েল ঘোষ জানান, পাকা সেতু করার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। আমরা আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদকে এই বিষযে জানিয়েছি। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি. আগামী দিনে এখানে পাকা সেতু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয অর্থ বরাদ্দ হবে। আলিপুরদুযায়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে তাঁদের বিষযটি জানানো হয়েছে। আগামী দিনে অর্থ বরাদ্দ হলেই ওই জাযগায় সেতু তৈরি করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।