নদীর জল ভেঙে ঝুঁকির যাতায়াত চার মৌজার বাসিন্দাদের

220

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : ফালাকাটা ব্লকের শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উড্ডা নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। বাদাইটারি, শিবনাথপুর, উমাচরণপুর ও খাউচাঁদপাড়া- এই চারটি মৌজার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা ওই সাঁকো। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সেতুর দাবি জানালেও কোনো লাভ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে সেতুর জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদিত সেতুটি অপ্রশস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী।

ফালাকাটা ব্লকের শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশ দিয়ে গিয়েছে উড্ডা নদী। নদীর অপর পাড়ে চারটি মৌজায় কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করেন। এক বছর আগে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। নদীর অন্য পাড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, সাপ্তাহিক হাট, স্কুল সহ অন্য অফিস ও দোকানপাট রয়েছে। বাধ্য হয়ে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ নদী ডিঙিয়ে যাতায়াত করেন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বিভিন্ন মহলে বহুবার পাকা সেতুর আবেদন জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি।

- Advertisement -

এলাকার প্রবীণ কৃষক পরেশচন্দ্র ঘোষ বলেন, ৫৩ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। বহুবার রাজনৈতিক পালাবদলও দেখেছি। নির্বাচনের আগে নেতারা বহুবার সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাঁশের সাঁকো ছাড়া কিছুই হল না। সেই সাঁকোও এক বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। দশম শ্রেণির ছাত্র আনারুল হোসেন বলে, নদীর জল ভেঙে আমরা যাতায়াত করি। ফলে ভেজা জামাকাপড় পরেই ক্লাস করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হবিকুল মিযাঁ বলেন, রোগীদের কোলে তুলে নদী পার করে এপারে এসে গাড়ি ধরতে হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে। বর্ষাকালে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বা হাটে যেতে হলে প্রায় তিন কিমি পথ ঘুরে যেতে হয়।

শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমল গাবুর বলেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবর্ষে পাকা সেতু তৈরির জন্য ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু সেতুটি চওড়া কম বলে এলাকার জনগণ বাধা দেওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। এবার অ্যাকশন প্ল্যানে আবার সেতুর বিষয়টি দিয়েছি। জেলাপরিষদের স্থানীয় সদস্য তথা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মাধ্যক্ষ শেফালি বর্মননট্ট বলেন, ওই ব্রিজ তৈরির জন্য অর্থবরাদ্দ হয়েছিল। টেন্ডারও করা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ বাধা দেওয়ায় কাজ করা যায়নি।

এলাকাবাসীদের দাবি, যে সেতু তৈরির পরিকল্পনা হয়েিল, সেটি দিয়ে শুধুমাত্র সাইকেল-বাইক চলাচল করতে পারত। কৃষিপ্রধান এলাকায় এ জাতীয় সেতু করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁরা জানান, সেইসময় সেতুটি চওড়া করার দাবি জানানো হলেও আধিকারিকরা জানিয়ে দেন, য়ে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তাতে আর চওড়া সেতু বানানো সম্ভব নয়। ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, সেতুটি তৈরির ব্যাপারে ফের চেষ্টা করা হচ্ছে।