দীপাবলিতে মোমবাতির চাহিদা তুঙ্গে, কারখানাগুলিতে চরম ব্যস্ততা

496

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে চিনা টুনি বাল্ব সহ রংবেরংয়ের বাতির আমদানি এবার প্রায় বন্ধ। চিন থেকেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। তাই চিনের রংবেরংয়ের বাতি সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে এবার অনেকটাই দূরে সাধারণ মানুষ। ফলে এবছর দীপাবলি উৎসবে বিদেশি পণ্য বর্জন করে স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন তাঁরা। গতবারের তুলনায় এবার মোমবাতির চাহিদা যথেষ্ট বেড়েছে রায়গঞ্জে।

দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। বাড়ির ছাঁদ থেকে ঘর-বারান্দা সর্বত্র সেজে ওঠে আলোর রোশনাইয়ে। কোথাও জ্বলতে দেখা যায় মাটির প্রদীপ, কোথাও মোমবাতি, আবার কোথাও টুনির আলোতে আলোকিত হয়ে উঠে। তবে তেল দিয়ে মাটির প্রদীপ এবং মোমবাতির বদলে বেশ কয়েকবছর ধরে রংবেরংয়ের চিনা কোম্পানির টুনি বাল্বের চল শুরু হয়েছে। কিন্ত এবছর পরিস্থিতি আলাদা। তাই দীপাবলির আগে শহরের দোকানগুলিতে চায়না টুনি বাল্ব দেখা যাচ্ছে না। সেই বাজার দখল করে নিয়েছে মোমবাতি। দোকান গুলিতে মোমবাতির জোগান দিতে কারখানাগুলিতে শ্রমিকেরা ১২ ঘন্টা কাজ করছেন। দীর্ঘদিন পর মোমবাতির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুশি কারখানার মালিক সহ শ্রমিকরা।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ শহর ও শহরতলি এলাকায় রয়েছে তিনটি মোমবাতির কারখানা। প্রতিটি কারখানায় এখন জোড়কদমে কাজ চলছে। কলেজপাড়ার একটি কারখানায় দেখা গেল মোমবাতি তৈরির কাজে ব্যস্ত ৮ জন শ্রমিক। এখন তাঁদের নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে এখন তাঁদের ১২ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে। মহম্মদ সেলিম নামে এক শ্রমিক জানান, করোনা সংক্রমণের পর মোমবাতির চাহিদা বেড়েছে। তাই তাঁদের পারিশ্রমিকও বেড়েছে। কারখানার মালিক দেবাংশু সাহা জানান, গতবারের তুলনায় মোমবাতির বিক্রি বেড়েছে এবার। চাহিদা বাড়লে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে। দেশীয় জিনিসের প্রতি মানুষের যে আবেগ ও ঐতিহ্য ছিল সেটা আবার ফিরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। মোম কারখানার মালিক সুধাংশু সাহা জানান, চিনা বাতি না আসায় মোমের চাহিদা যথেষ্ট বেড়েছে। তাই কাজের চাপও বেড়েছে। এবারে কালীপুজোয় ডবল সেল হবে বলে জানান তিনি। ইলেকট্রিক সরঞ্জাম ব্যবসায়ী অসিত সূত্রধর বলেন, ‘প্রতিবার কালীপুজোর আগে চিনা টুনি বাল্ব বিক্রির জন্য দোকানে এনে থাকি। কিন্ত এবছর কেউই বলছে না, তাই আনার সাহস পাচ্ছি না।’ মুদি ব্যবসায়ী রাজু তালুকদার জানান, বিশ্বকর্মা পুজো থেকে এবার মোমবাতির চাহিদা বেড়েছে। কারণ চিনা লাইট বিক্রি হচ্ছে না। আশাকরি কালীপুজোতে মোমবাতি যথেষ্ট বিক্রি হবে। কারণ অনেকেই মোমের অর্ডার দিয়ে গিয়েছেন।