নেওড়া নদীর সাঁকো ভেসে গিয়েছে, থার্মোকলের ভেলায় নদী পার

176

শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : জলের স্রোতে নেওড়া নদীতে ভেসে গিয়েছে গ্রামবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র সাঁকো। যার জেরে ময়নাগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে আমগুড়ি ও রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় হাজার পঁচিশেক গ্রামবাসীর। বাধ্য হয়ে থার্মোকলের ভেলা বানিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেওড়া নদী পারাপার করছেন তাঁরা। বহুবার আশ্বাস মিললেও পাকা সেতুর দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। যদিও শীঘ্রই ওই স্থানে সেতু তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন এসজেডিএর চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন।

ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমোহনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বৌলবাড়ি কুমারপাড়ার নেওড়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে পাকা সেতুর দাবি করে আসছেন এলাকাবাসী। শীতে জল না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও রাখালহাট, আমগুড়ি ও  রামশাইয়ের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নদী পেরিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষার সময় নদী টইটুম্বুর হয়ে যাওয়ায় নদী পেরোনোর উপায় থাকে না। প্রতি বছর বর্ষার আগে নদীতে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। এবারও সাঁকো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার গভীর রাতে সাঁকোটি ভেসে যায়। যার ফলে ওই পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

- Advertisement -

ময়নাগুড়ি ব্লকের কৃষিপ্রধান এলাকার অন্যতম রাখালহাট, আমগুড়ি ও  রামশাই। এলাকার কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যান বিভিন্ন হাটে-বাজারে। এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কৃষকরা তাঁদের ফসল নিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয় গড়েন রায়, মিনা রায়রা জানান, গ্রাম থেকে উৎপাদিত ফসল ভ্যানে করে সাঁকোর এক পাড়ে নিয়ে আসা হয়। তারপর মাথায় করে সাঁকোর ওপর দিয়ে ওই ফসল নদীর অপর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য ভ্যান বা পণ্যবোঝাই গাড়ি করে সেগুলি নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হাটে-বাজারে। যার ফলে একদিকে যেমন সময় অপচয় হয়, তেমনি ফসল পরিবহণের খরচও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে রোগীদের নিয়ে যেতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বাঁশের সাঁকো দিয়ে গুরুতর রোগীদের নিয়ে যাওযা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাড়তি খরচ করে ঘুরপথে নিয়ে যেতে হয় তাঁদের। শুধু রোগী ও কৃষকই নন, এই সেতুর উপর নির্ভরশীল বৌলবাড়ি নীলকান্ত পাল হাইস্কুল ও ময়নাগুড়ি কলেজের বহু পড়ুয়া। সেতু ভেসে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাও। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য পিঙ্কি পাল বলেন, শুনেছি ওখানে পাকা সেতু হবে। সেই পাকা সেতুর অপেক্ষায় রয়েছি। পঞ্চায়েত প্রধান কল্যাণী রায় বলেন, এসজেডিএ ওই সাঁকোর জায়গায় সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিচ্ছে। দ্রুত ওই কাজ শুরু হবে। এসজেডিএর চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, সেতু তৈরির প্রক্রিযা শুরু হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের জেরে থমকে যায়। এখন সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।