অবিলম্বে ডালখোলা বাইপাসের কাজে গতির দাবি

463

বরুণ মজুমদার,  ডালখোলা : ১৪ বছরেও ডালখোলা বাইপাসের কাজে গতি না আসায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। সমস্যা না মেটায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এনিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ক্ষোভ জানিয়েছে। অবিলম্বে ডালখোলা বাইপাসের কাজে গতি না ফিরলে ছটপুজোর পর জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ করা হবে বলে তৃণমূল কংগ্রেস হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) সূত্রে খবর, উড়ালপুলের পুরোনো নকশায় রেল আপত্তি করায় নতুন করে ফের নকশা জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হয়। ফলে বুড়ি মহানন্দার নকশাও বদল করতে হয়। এজন্য কাজে দেরি হওয়ার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির জেরেও কাজে দেরি হয়েছে। বহু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। ফলে আগামী মার্চের আগে একাজ কোনওমতেই সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে।

ডালখোলা শহরের মধ্যে দিয়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক চলে গিয়েছে। শহরের মাঝখান দিয়ে রেললাইন রয়েছে। এই রেলপথ উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন ১২০টি ট্রেন এই রেলপথে যাতায়াত করে। তাই ১৫ মিনিট অন্তর রেলগেট বন্ধ থাকে। তাই জাতীয় সড়কে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। সড়কপথে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ইউপিএ সরকারের আমলে ২০০৬ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী টিআর বালু এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ডালখোলা বাইপাস প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। বাইপাসটি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ডালখোলা ফ্লাওয়ার মিল থেকে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে পূর্ণিয়া মোড় গিয়ে উঠবে। মাঝে ১৪টি বছর কেটে গেলেও আজও প্রকল্পটি চালু হয়নি। কখনও জমি অধিগ্রহণ, কখনও জমির ন্যায্য দাম নিয়ে আন্দোলন, কখনও বা অর্থাভাবের জেরে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ডালখোলা বাইপাসের কাজ মার খেয়েছে। বাইপাসের কাজের জন্য চার বছর আগে ৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু তারপরও কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের জন্য আরও ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এনএইচএআই সূত্রে খবর, উড়ালপুলের পুরোনো নকশায় রেল আপত্তি করায় নতুন করে ফের নকশা জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হয়। রেলের একটি প্রতিনিধিদল এসে উড়ালপুলের স্তম্ভগুলি খতিয়ে দেখে গিয়েছে। রেল সূত্রে খবর, দলটি ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই রেললাইনের উপর দিয়ে উড়ালপুলের কাজ শুরু হতে পারে। এনএইচএআই-এর মালদা ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ওম বিহারি বলেন, রেলের উড়ালপুলের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় কাজটি শুরু করা যায়নি। তবে উড়ালপুলের গার্ডওয়ালের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিক জানান।

- Advertisement -

এদিকে, ডালখোলা বাইপাসের কাজে দেরি হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষোভ জানিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুরের সহ সভাপতি সুভাষ গোস্বামী বলেন, সিপিএম তাদের ৩৪ বছরের রাজত্বকালে এখানে বাইপাসের কাজ করতে পারেনি। উলটে কাজে বাধা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমিজটের প্রতিটা মামলার সমাধান করে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রতিগতিতে বাকি কাজ সম্পন্ন করতে সংশিষ্ট কর্তপক্ষকে বলা হয়েছে। অবিলম্বে কাজ শুরু না হলে ছটপুজোর পর জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ করা হবে। সিপিএমের উত্তর দিনাজপুরের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের কাটমানি আদায় ও কাজে বাধাদানের জন্যই ডালখোলা বাইপাসের কাজ হচ্ছে না।বিজেপির  জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বলেন, উন্নয়ন স্তব্ধ করতে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল বারবার বাধা দিয়েছে। পাশাপাশি, করোনা ও অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্যও সমস্যা হয়েছে। ডালখোলা বাইপাস ও রেল ফ্লাইওভারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখে কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছেন। তাড়াতাড়িই সমস্যা মিটবে বলে তিনি জানান।