বিদেশ বসু, মালবাজার : মালবাজার স্টেশন চত্বরে থাকা পার্কিং জোনের বেহাল পরিস্থিতির জেরে নাগরিকরা সমস্যায় পড়েছেন। বর্তমানে নিউ মাল জংশন চালু হওয়ায় পুরোনো এই স্টেশনের গুরুত্ব অনেকটাই কমেছে। কিন্তু এখনও নানা কাজে নাগরিকদের এই স্টেশনে আসতে হয। স্টেশনের পার্কিংয়ের এলাকাটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই এলাকা কাদায় ভরে যায়। দ্রুত সমস্যা মেটানোর দাবিতে নাগরিকরা সরব হয়েছেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

মালবাজার স্টেশনটি মূলত ঐতিহ্যবাহী বেঙ্গল-ডুয়ার্স রেলওয়ে (বিডিআর)-এর অংশ। বর্তমানে এই স্টেশন নিউ মাল-চ্যাংরাবান্ধা রুটের অংশ। সারাদিনে একজোড়া ডেমু ট্রেন এই স্টেশনে আসে। তবে, রেলওয়ে রিজার্ভেশন কাউন্টার ও রেলের হেল্থ ইউনিট মালবাজার স্টেশন চত্বরে অবস্থিত হওয়ায় সারাদিন বহু মানুষের যাতাযাত লেগেই থাকে। কিন্তু স্টেশনের পার্কিং জোনটির বেহাল দশার জেরে সমস্যা বাড়ছে। পার্কিং জোনটির বিভিন্ন অংশে গর্ত হয়ে গিয়েছে। সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা এলাকায় জল জমে যায়। জমা জল পেরিয়ে যাত্রী ও অন্য কাজে স্টেশনে আসা নাগরিকদের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া পার্কিং জোনে কোনো ছাউনিও নেই। ফলে খোলা আকাশের নীচেই নাগরিকরা যানবাহন রাখেন। শুধু পার্কিংই নয়, স্টেশনে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। শহরের সুভাষ মোড় থেকে ঘড়ি মোড় হয়ে স্টেশনগামী রাস্তাটির দুপাশে প্রচুর অবৈধ অস্থায়ী দোকান বসেছে। যার ফলে চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে প্রায়ই যানজট হয়।

সমস্যাগুলি নিয়ে সাধারণ বাসিন্দা ও রেলকর্মীদের একাংশ সরব হয়েছেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের মালবাজার শাখার সম্পাদক কুন্দন মল্লিক বলেন, মালবাজার স্টেশনের পার্কিং ও অন্য সমস্যা নিয়ে পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিযে চিঠি দিয়েছি। আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নেব। প্রয়োজন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফের চিঠি দেওয়া হবে। রেলওয়ে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের মালবাজার শাখার সম্পাদক সজল রায় বলেন, মালবাজার স্টেশনের পার্কিং জোনটির উন্নতি করা প্রযোজন। এখানে রিজার্ভেশন ও হেল্থ ইউনিট রয়েছে। ফলে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন। পার্কিং ও রাস্তার সমস্যার জেরে তাঁদের অসুবিধা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ারের ডিভিশনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য মোহিতরঞ্জন শিকদার বলেন, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। ওই এলাকার নিকাশির সমস্যার সমাধান দ্রুত করা প্রয়োজন।

শহরের প্রবীণ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সরকার এই স্টেশনের ঐতিহাসিক মূল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, একসময় এই স্টেশনটি খুবই জমজমাট ছিল। এমনকি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদও এই স্টেশনে এসেছিলেন। এই স্টেশনটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা দরকার। এ প্রসঙ্গে ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার কানভীর সৈন জৈন বলেন, স্টেশন চত্বর এবং পার্কিং জোনের উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবিগুলি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। স্টেশনে ঢোকার মুখের রাস্তাটি মাল পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রূপক সিনহা বলেন, সুভাষ মোড় থেকে স্টেশন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।