বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস মন্ত্রীর

273

চ্যাংরাবান্ধা: কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে দ্রুত বৈদেশিক বাণিজ্য চালুর দাবিতে এবার রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের দ্বারস্থ হলেন সামাজিক সংগঠন সৃজন এবং ব্যবসায়ীদের একাংশ। বুধবার ওই সংগঠনের সদস্য ও ব্যবসায়ীরা আলাদা আলাদাভাবে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে বাণিজ্য চালুর আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

সৃজনের সম্পাদক সুনির্মল গুহ বলেন, ‘বাণিজ্য চালুর দাবির কথা মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনিও বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।’ মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ে এদিন ওই এলাকার কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধি আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন বাণিজ্য বন্ধ থাকায় অনেক মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেব। কথা বলব জেলা শাসকের সঙ্গেও। সমস্ত বাধা কাটিয়ে কিভাবে সমস্যা মেটানো যায় সেই চেষ্টা করা হবে। প্ৰয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।’

- Advertisement -

এদিকে, সীমান্ত বাণিজ্য চালুর দাবি নিয়ে আলোচনা করতে চ্যাংরাবান্ধায় এদিন চ্যাংরাবান্ধা ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন ট্রাক মালিকদের উপস্থিতিতে বৈঠক করা হয়েছে বলে ডুয়ার্স ইউনাইটেড ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ইদু সদাগর জানিয়েছেন।

বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস মন্ত্রীর| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের কারণে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে সমস্ত রকমের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে রয়েছে। টানা ৭৯ দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ওই সময়ের মধ্যে ভারত এবং ভুটান থেকে কোনওরকম পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়নি। তেমনি বাংলাদেশ থেকেও কোনওরকম পণ্য আমদানি হয়নি ভারত ও ভুটানে। এই অবস্থায় ৭৯ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১০ জুন চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে পুনরায় বৈদেশিক বাণিজ্য চালু করা হয়। কিন্তু ঘণ্টা তিনেক বাণিজ্য চলার পরেই ফের প্রশাসনের নির্দেশেই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে চিন্তায় ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক, চালক, শ্রমিক সহ বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রচুর মানুষজন। তাঁরা জানিয়েছেন, এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাঁরা ঋণ করে ট্রাক কিনেছেন। বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ট্রাকের ভাড়া না হওয়ায় তাঁরা দারুণ সমস্যায় পড়েছেন। অনেক শ্রমিকের কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এমনকি অনেক মানুষের রুটি রুজি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই সকলেই বাণিজ্য খোলার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ানের উপস্থিতিতে গত ৩ জুন চ্যাংরাবান্ধায় বিডিও দপ্তরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই ১০ জুন বাণিজ্য চালু হয়েছিল। যদিও প্রশাসনের একটি অংশের তরফে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্য চালু হওয়ার কারণে চালু হওয়ার ঘণ্টা তিনেক পর সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। এরপরেই সেই বৈঠকের আলোচনা মোতাবেক তাঁরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা ব্লক ও মহকুমা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। ফের বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রচুর পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে পড়ে। বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সমস্যা মেটানোর দাবিতে বিভিন্ন মহলে ছুটছুটি করছেন। পুনরায় তাঁরা জেলা এবং মহকুমা প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় তিনকোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর এর যথেষ্ট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও তাঁরা জানান। তাই কবে নাগাদ পুনরায় এই সীমান্ত দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হয় এখন সকলেই সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।

কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরের বৈদেশিক বাণিজ্যের বিষয়টি জেলা প্রশাসনেরর তরফে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।