উত্তরবঙ্গে নতুন করে এইমসের দাবি

243

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গে তৈরি করা হোক এইমস- এই দাবিতে রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে ফের জোরালো আওয়াজ উঠছে। এবার কোনও রাজনৈতিক ব্যানারে নয়, একেবারেই পতাকাহীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে একজোট হচ্ছে আট জেলার বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠন। এইমসের দাবিতে ইতিমধ্যেই কয়েকটি জেলায় নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন নানা সংগঠনের কর্তারা। রাজনৈতিক দলগুলির উপর চাপ বাড়াতে দাবির সমর্থক সমস্ত অরাজনৈতিক সংগঠনকে নিয়ে শীঘ্রই শিলিগুড়িতে সেমিনার করার চেষ্টা চলছে। তাদের নির্বাচনি ইস্তাহারে রাজনৈতিক দলগুলি যাতে উত্তরবঙ্গে এইমসের সমর্থন জানায়, সেই দাবিও তোলা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে এমন সংগঠন ছাড়াও একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন এইমসের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েনের সদস্য সুনীল সরকার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হবে। আমরা চাই লাল, গেরুয়া, সবুজ সব দলই উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরিতে তাদের সমর্থনের কথা নিজেদের নির্বাচনি ইস্তাহারে লিখুক। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, রাজ্যে একটা এইমস হয়েছে বলে আর হবে না, এমনটা বলা হচ্ছে। নিয়ম মানুষের জন্য তৈরি হয়, মানুষের জন্যই বদলায়। সংবিধানও সংশোধন হয়। তাই প্রয়োজনে নিয়ম বদলানো হোক এবং উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরি হোক।

উত্তরবঙ্গের এইমস নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনেক দড়ি টানাটানি হয়েছে। একদল অন্য দলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে। বাম, বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের জন্য বরাদ্দ এইমস রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কল্যাণীতে। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বক্তব্য, রাজ্য ও কেন্দ্রের বোঝাপড়াতেই কল্যাণীতে এইমস তৈরি হচ্ছে। এইমস না হলেও উত্তরের জেলায় জেলায় সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ তৈরির তালিকা দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলের নেতারা। যদিও সেইসব হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং চিকিৎসকের সংখ্যা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে। এখান থেকেই যাবতীয় প্রশ্ন শুরু হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার মানবিক মুখের সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস বলেন, উত্তরবঙ্গে স্বাস্থ্য কাঠামোর দুর্দশার কথা কারও অজানা নয়। এইমসের বিকল্প কিছু হতে পারে না। ভোটের আগেই নেতারা গুরুত্ব দিয়ে কথা শোনেন। তাই ভোটের আগেই দাবির কথা জোরালোভাবে তুলতে হবে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সেই দাবি তোলা হবে। এইমস নিয়ে সবথেকে বেশি আন্দোলন হয়েছে উত্তর দিনাজপুরে। উত্তর দিনাজপুর জেলা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপি সবাই এইমসের গল্প শুনিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছে। কাজ করেনি কেউই। তাই অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই দাবি জোরালো করতে হবে। এইমসের দাবিতে আন্দোলনের পাশে সার্বিকভাবে থাকব। উত্তর দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুণ্ডু বলেন, আগেও এইমসের দাবিতে আন্দোলন করেছি। ফের করব।

- Advertisement -

শিলিগুড়ি সূর্যনগর সমাজকল্যাণ সংস্থার কর্তারাও এইমসের দাবি আদায়ে আন্দোলনে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। সংগঠনের উপদেষ্টা গৌতম কর বলেন, উত্তরবঙ্গে এইমসের বিকল্প কিছু হতে পারে না। উত্তরের মানুষ সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা থেকে দীর্ঘদিন থেকেই বঞ্চিত। অরাজনৈতিক মঞ্চের সঙ্গে থেকে সেই দাবি আদায়ে পূর্ণ সহযোগিতা করব। তবে দাবি আদায়ের আন্দোলন নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন মালদা ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক উত্তমকুমার ঝা। তিনি বলেন, রাজনীতির ছোঁয়া থেকে আন্দোলনকে মুক্ত রাখতে হবে। রাজনীতি ঢুকলেই আন্দোলন অন্যপথে পরিচালিত হতে পারে, যা দাবি আদায়ে পথে বাধা তৈরি করতে পারে। উত্তরবঙ্গে এইমসের দাবিতে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আবেদন জানিয়েছে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর কর্তারা। সংগঠনের সভাপতি সুরজিৎ পাল বলেন, অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই আমরা এইমসের দাবিতে সোচ্চার হব। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। শিলিগুড়িতে একটি সেমিনার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশের জন্যও উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরি অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিচার করে এক রাজ্যে এক এইমস নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। উত্তরবঙ্গের আরেক ব্যবসায়ী সংগঠন ইস্টার্ন এবিসি চেম্বার অফ কমার্সের অন্যতম কর্তা গোপাল খোরিয়া বলেন, উত্তরবঙ্গে যে কোনও প্রকারেই হোক এইমস দরকার। অরাজনৈতিকভাবেই সেই দাবিকে জোরালো করতে হবে। আমরা অরাজনৈতিক মঞ্চের সঙ্গে আছি।