নৌকোর চাহিদা বেড়েছে এই জেলায়, যোগান দিতে হিমিশিম ব্যবসায়ীরা  

148

রায়গঞ্জ: কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ । স্টিল ও চীনা সামগ্রীর জেরে কাঠের আসবাবের বিক্রি কমেছে ফলে আগের মত নেই ব্যবসা। কিন্তু চলতি বর্ষায় কাঠের সামগ্রী নির্মাণকারীদের কাছে পৌষ মাস হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাত জেগে চলছে নৌকো তৈরীর কাজ। দম ফেলারও ফুরসত নেই। চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছেন না দোকানদাররা। এক একটি নৌকো বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।  ২০১৭ সালে রায়গঞ্জ, ইটাহার, চাকুলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। ঘটি বাটি বিক্রি করে কিংবা চাঁদা তুলে গ্রামের সবাই মিলে নৌকোর জন্য টাকা জোগাড় করেছিলেন, এমনও নজির রয়েছে। ফলে আয় হলেও দুর্গত মানুষের জন্য তাদের মনে কষ্ট রয়েছে।

 

- Advertisement -

রায়গঞ্জ রাজবিহারি মার্কেটে পা রাখলে এখন দেখা যাবে আর সব কাজ ফেলে কাঠের ফার্নিচার বিক্রির প্রতিটি দোকানের সামনেই নৌকো তৈরি চলছে পুরোদমে। ব্যবসায়ী বিপ্লব কুন্ডু বলেন, ‘মূলত আম ও লাল পাকুর কাঠ দিয়ে নৌকো তৈরি হচ্ছে। একটি নৌকো বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। কোনোটা আবার এর চেয়েও বেশি দামে।‘ সামনের বর্ষায় জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যোগাযোগের ভরসা হয়ে দাঁড়াবে এই নৌকাগুলি। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় নৌকো মিস্ত্রীদের দিনরা তের  নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। এখনও উত্তর দিনাজপুর জেলায় বহু গ্রামে যাতায়াতের ভরসা নৌকো , কোথাও আবার বাসেরসাঁকো। সেই সব গ্ৰামের বাসিন্দারা বন্যা হওয়ার আগেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নৌকো কিনতে উদ্যোগী হয়েছে। নিজেদের নৌকো থাকলে বন্যার জলে চূড়ান্ত দূর্ভোগের মুখ থেকে বেঁচে কোনও বাঁধের পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের বন্যা এখনও মানুষের মনে দাগ কেটে রেখেছে। তার ফলেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই নৌকো কিনতে আসছেন। এছাড়াও যে সমস্ত এলাকায় একটু নদীর জল বাড়লেই সাঁকো ভেসে যাবে সেইসব এলাকাতেও নৌকোর প্রয়োজন রয়েছে।