সাঁকো দিয়ে চলছে টোটো, দুর্ঘটনার আশঙ্কা ফাঁসিরঘাটে

373

দেওয়ানহাট : কোচবিহার জেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে শহর থেকে ঢিলছোড়া দূরে অবস্থিত ফাঁসিরঘাটের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ষাকাল বাদ দিয়ে বছরের অন্যান্য সময় এখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে তোর্ষা নদী পারাপার চলে। বর্তমানে লকডাউনের জন্য সাঁকোর উপর চাপ কম। কিন্তু এ সময় সরকারি নিয়ম ভেঙে বেশ কিছু পণ্যবাহী টোটো চলাচল করছে। বেহাল সাঁকো দিয়ে টোটো পারাপার করায় যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে প্রশাসনিক পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা।

ঘুঘুমারি এড়িয়ে এই পথ ধরে কোচবিহার শহর এবং জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যায়। এতে যাতায়াতের খরচ এবং সময় সাশ্রয় হয়। তাই কোচবিহার শহর, কোচবিহার-১ ব্লকের শুকটাবাড়ি, ঘুঘুমারি, মোয়ামারি, ফলিমারি, চান্দামারি, চিলকিরহাট, পাটছড়া, পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী, হাঁড়িভাঙ্গা ও দিনহাটা মহকুমার গোসানিমারি, সিতাই, পেটলা সহ মাথাভাঙ্গা মহকুমার নিশিগঞ্জ এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ ফাঁসিরঘাটের ওপর নির্ভরশীল। নিত্যদিন সূর্যোদয় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এইসব এলাকার মানুষ তোর্ষা নদীর বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে এই পথে চলাচল করেন। বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ফাঁসিরঘাটে সেতু তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ফাঁসিরঘাট সেতু আন্দোলন কমিটি গড়ে ওঠে। এই সংগঠন নাগরিক কনভেনশনের পাশাপাশি একাধিক বৈঠকের পর জেলা শাসকের  মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে সেতু তৈরির দাবিতে স্মারকলিপি দেয়। টাপুরহাট এলাকার প্রদীপ রায় কোচবিহার শহরে ওষুধের দোকানের কর্মচারী। লকডাউনের মধ্যেও এই সাঁকো পেরিয়ে তিনি চলাচল করছেন। তিনি বলেন, সাঁকোটি বেহাল হয়ে রয়েছে। বাইক নিয়ে পারাপারে ভয় হয়। দ্রুত সাঁকো সংস্কার প্রযোজন।

- Advertisement -

ফাঁসিরঘাট সেতু আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক কাউসার আলম ব্যাপারী বলেন, সংস্কারের অভাবে ফাঁসিরঘাটের সাঁকোটি বেহাল হয়ে রয়েছে। এই অবস্থাতেও বেশ কিছু টোটো নিষেধাজ্ঞা ভেঙে সাঁকো পারাপার করছে। অবিলম্বে সাঁকো সংস্কার ও টোটো চলাচল আটকানো প্রয়োজন। কোচবিহার জেলা জলপথ সমবায় সমিতি ফাঁসিরঘাটে সাঁকো দেখভালের দাযিত্বে রয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই সাঁকো সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান। সাঁকো দিয়ে টোটো চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা টোটো চলাচল করতে দিই না। আমাদের নজর এড়িয়ে কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। বাস্তবে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে সাঁকো দিয়ে টোটো চলাচল সম্ভব কি না-সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাঁসিরঘাটে পুলিশি নজরদারি রয়েছে। সাঁকো দিয়ে টোটো চলাচল বন্ধ করতে তাঁরা পদক্ষেপ করবেন।