চাহিদা কমেছে ডুলির, পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের আর্জি কারিগরদের

116

তুফানগঞ্জ: গ্রামীণ জীবনের অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ডুলি। মূলত খেত থেকে ধান কাটার পর তা রাখার জন্য ডুলির ব্যবহার প্রচলিত। কিন্তু এখনকার সময়ে সেই ডুলির চাহিদা কমছে। যারা এই ডুলি তৈরি করতেন তাঁরাও চাহিদা কমায় আর ডুলি তৈরির কাজ করতে চাইছেন না। ডুলি তৈরির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তাই সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন কারিগররা। অতীতে বাঁশের ডুলির ভালো চাহিদা ছিল তুফানগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায়। এখন আর আগের মতো চাহিদা নেই। তাই ডুলি বিক্রি করে সংসার চালাতে সমস্যায় পড়েছেন তুফানগঞ্জ মহকুমার ডুলি কারিগররা।

তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি, দেওচড়াই, বালাঘাট, ধলপল এলাকায় বাঁশের ডুলি তৈরি হতো। এখন এই পেশা থেকে অনেকেই সরে এসেছেন। তবুও তুফানগঞ্জ মহকুমায় প্রায় ২০-২৫ টি পরিবার বংশপরম্পরায় বাঁশের ডুলির পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করছেন। বালাঘাট এলাকার রঞ্জিত পোদ্দার জানান, তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। আগে ডুলি সরবরাহ করার জন্য শ্রমিক নিযুক্ত করতে হতো। এখন চাহিদা কমায় শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। ডুলি বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় বছরের অন্যান্য সময় দিনমজুরের কাজ করতে হয় তাঁদের। তাই সন্তানদের আর এই পেশায় আনতে চান না ডুলি শিল্পীরা। একটি ডুলি তৈরি করতে খরচ হয় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। আর বাজারে তা বিক্রি হয় ৬৫০-৭০০ টাকায়। ডুলির উপকরণের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় ডুলির দাম বাড়েনি। আগে প্রতি হাটে ১০-১৫ টি ডুলি বিক্রি হতো। বর্তমানে ২-৩ টির বেশি বিক্রি হয় না। এমনকি কোনও কোনও হাটে একটি ডুলিও বিক্রি হয় না। বাধ্য হয়েই এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা।

- Advertisement -