অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : শীত মানেই পিঠে, পায়েস ও নলেন গুড়ের মিষ্টি সুবাস। আর পিঠে-পায়েসের উৎসব মানেই পৌষপার্বণ। আর পিঠেপুলি খেতে গেলে চাই পিঠে ভাজার মাটির চাটু ও সরা। তাই শীতের আমেজ পড়তে না পড়তেই হলদিবাড়ি ব্লকের হাটেবাজারে পিঠে ভাজার মাটির চাটু ও সরা নিয়ে হাজির মৃত্শিল্পীরা। তবে মৃত্শিল্পীদের আক্ষেপ শীতে পিঠেপুলি খাওয়ার আগ্রহ থাকলেও মানুষজন মাটির চাটু ও সরার দাম নিয়ে বিস্তর দরাদরি করছেন।  হলদিবাড়ির মৃত্শিল্পী শ্যামল পাল বলেন, চাটু ও সরা তৈরি করতে চাই ভালো মানের মাটি। যথেষ্ট পরিশ্রম করে চাটু ও সরা তৈরির মাটি প্রস্তুত করতে হয়। এঁটেল মাটির সঙ্গে প্রয়োজনমতো জল মিশিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই মাটিকে মাখিয়ে সরা তৈরির উপয়োগী করে তোলা হয়। তারপর চাকা ঘুরিয়ে তার ওপর মাটি রেখে সুকৌশলে হাত দিয়ে তৈরি করা হয় কাঁচা মাটির চাটু ও সরা। এরপর তা রোদে শুকিয়ে শক্ত করা হয়। শেষ পর্যায়ে সেই কাঁচা পাত্রগুলি আগুনে পুড়িয়ে নেওয়া হয়। আগুনে পোড়াতে গিয়ে অনেক চাটু ও সরা নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলো বেছে বাজারে নিয়ে যেতে পরিশ্রম ও পরিবহণ খরচ হয়। আকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সরা সহ ঢাকনার দামও বিভিন্ন রকম হয়। সব মিলিয়ে মাটির দাম, জ্বালানি খরচ, পারিশ্রমিক সব খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে তাতে উপযুক্ত দাম না পেলে পিঠে ভাজার চাটু ও সরা বিক্রি করে খরচের টাকাই ওঠানো দায়। হলদিবাড়ি ব্লকের মৃত্শিল্পী প্রতিমা পাল, লক্ষ্মী পাল,আশিস পাল জানান, শীতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চাটু ও সরা তৈরি করলেও এখন আর আগের মতো চাটু ও সরার চাহিদা নেই। কারণ বর্তমানে শীতের দিনগুলিতে হাটে, বাজারে বিভিন্ন দোকানে তৈরি পিঠেপুলি বিক্রি হয়। বাড়িতে পিঠেপুলি বানানোর ঝক্কি এখন আর অনেকেই নিতে চান না। মৃত্শিল্পী শ্যামল পাল, বাবু পালরা জানান, চাটু ও সরা বিক্রি আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে। তার উপর মাটি সহ জ্বালানি খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে চাটু ও সরার দাম পাওয়া য়ায় না। বাপঠাকুরদার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমরা এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে থাকলেও নতুন প্রজন্ম এই পেশা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মৃত্শিল্পীদের আক্ষেপ, এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকার যদি তাঁদের কথা ভাবত, কম সুদে অনুদানযুক্ত ঋণের ব্যবস্থা সহ তাঁদের জন্য সরকারি সুয়োগসুবিধার ব্যবস্থা করত তাহলে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা যেত।