রাজবংশী আবেগকে সম্মান, চাহিদা বাড়ছে হলুদ গামছার

102

মনোজ বর্মন, শীতলকুচি : উত্তরবঙ্গে  রাজবংশী ভোট বড় বালাই।  তাই বিধানসভা ভোটের আগে অনেকাংশে বেড়েছে হলুদ গামছার ব্যবহার। তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, বিজেপি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের গলাতেই এখন দেখা যাচ্ছে হলুদ গামছা। যদিও কয়েক বছর আগেও হলুদ গামছার ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে। ওইসব সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের স্বাতন্ত্র‌্য বোঝাতেই মূলত এই গামছা ব্যবহার করতেন। কিন্তু গত দুবছরে সব দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই হলুদ গামছার ব্যবহার বাড়ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও এই গামছার ব্যবহার বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীও উত্তরবঙ্গে সভা করতে এসে গলায় এই গামছা দিয়েছেন।

হলুদ গামছার প্রচলন নিয়ে নানা মত রয়েছে। কোচবিহারে ১৯৯৮ সালে গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা বংশীবদন বর্মন তাঁর সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে প্রথম হলুদ গামছা ব্যবহারের প্রচলন শুরু করেছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, শুভ কাজ ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসাবে হলুদ রংয়ে ব্যবহার করে রাজবংশী জনজাতি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের রথে হলুদ রংয়ের পতাকা ছিল। তাই বিভিন্ন কারণে আমরা হলুদ রংয়ের গামছা প্রচলন শুরু করি। বর্তমানে হলুদ গামছাকে উত্তরের ভূমিপুত্ররা নিজেদের সংস্কৃতির অঙ্গ হিসাবে দেখে। হলুদ গামছা রাজবংশীদের ভাবাবেগে জড়িয়ে গিয়েছে। বংশীবদনবাবু বলেন, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা শুধু রাজবংশীদের ভোট নিজেদের কাছে রাখতেই ভোটের আগে হলুদ গামছা ব্যবহার করছেন।

- Advertisement -

তবে এ বিষয়ে কামতাপুরি ভাষায় সিনেমার পরিচালক তপনকুমার রায় বলেন, উত্তরবঙ্গের আদি বাসিন্দারা তাঁতে বোনা গামছা ব্যবহার করতেন কিন্তু তা হলুদ রংয়ের ছিল না। যে-ই এই হলুদ গামছার প্রচলন করুক, বর্তমানে রাজবংশী, কামতাপুরি মানুষ এই হলুদ গামছাকে নিজেদের কৃষ্টির অঙ্গ হিসাবে ধরে নিয়েছেন। তাই ভোটের বাজারে রাজবংশী, কামতাপুরি মানুষের ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে হলুদ গামছা ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে বামনহাট হাইস্কুলের শিক্ষক রতন বর্মন বলেন, হলুদ গামছা রাজবংশীদের জাগরণের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুবছর ধরে হলুদ গামছা ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। বর্তমানে  অথিতিদের আপ্যায়ন করা, শুভ কাজে ব্যবহার সহ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই গামছা। কেউ হলুদ গামছার অবমাননা করলে তার প্রতিবাদ করছে রাজবংশী সংগঠনগুলি।