জাতীয় সড়কের একাংশ জবরদখল, সার্ভিস রোডের দাবি

বারবিশা : অসম-বাংলা সীমান্তের বারবিশা কমার্শিয়াল সেলস ট্যাক্স চেকপোস্টে জাতীয় সড়কের একাংশ দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা চলছে। গত কয়েক বছরে ওই এলাকায় জাতীয় সড়ক ঘেঁষে শতাধিক দোকানঘর সহ বাজারের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। তার উপর ভিনরাজ্যের পণ্যবাহী ট্রাক জাতীয় সড়কের উপর দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকছে। ফলে পড়ুয়া সহ সাধারণ পথচারী, সাইকেল ও মোটরবাইক আরোহীরা ওই রাস্তায় যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়ছেন। এলাকায় যানজট হচ্ছে। এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

অথচ এই নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হেলদোল নেই। বাসিন্দাদের একাংশ যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে জাতীয় সড়কের পাশে সার্ভিস রোড তৈরির দাবি জানিয়েছেন। বাসিন্দা সুদাম বর্মন বলেন, অসম-বাংলা সীমান্তের সংকোশ বাজার থেকে বারবিশা চৌপথি পর্যন্ত কমার্শিয়াল সেলস ট্যাক্স চেকপোস্টে জাতীয় সড়কের উপর প্রায়ই যানজট হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের অংশে জাতীয় সড়কের পাশে সার্ভিস রোড থাকলেও কোচবিহারের অংশে তা নেই। সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের কাছে সংকোশ বাজার থেকে নাজিরান দেউতিখাতা হয়ে জোড়াই সেতু পর্যন্ত সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। ব্যবসায়ী বিষ্ণু সাহা জানান, বারুইপাড়া, মাঝেরডাবরি, বিষ্ণুনগর, কোলনি, ছাট ভল্কা, দক্ষিণ রামপুর সহ একাধিক গ্রামের রাস্তা জাতীয় সড়কে এসে মিশেছে। রোজ লক্ষাধিক মানুষ ওই রাস্তায় যাতায়াত করেন। ফলে সংকোশ বাজার থেকে জোড়াই সেতু পর্যন্ত জাতীয় সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে একবার সার্ভিস রোড তৈরির জন্য মাপজোখ করেছিল। তারপর আর কোনওরকম উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

- Advertisement -

এ ব্যাপারে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের জলপাইগুড়ির প্রোজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, ওই এলাকায় যাব। সার্ভিস রোড তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা মিলবে কি না তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। রামপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান পরিতোষ দাস বলেন, ২০০৯ সালে কোচবিহার জেলার নাজিরান দেউতিখাতা এলাকায় সার্ভিস রোড তৈরির দাবিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের শিলিগুড়ি অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানকার আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়ার এলাকা ঘুরে সমীক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কয়েজন নেতা ও ব্যবসায়ীদের বাধায় কাজ আটকে যায়। পঞ্চায়ে সদস্যা মালা সরকার দাসও তাঁর কথায় সায় দেন। তিনি বলেন, আশা করছি, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করবে।