তিনবিঘা করিডরকে কেন্দ্র করে পর্যটন হাব গড়ে তোলার দাবি

143

মেখলিগঞ্জ: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি হয় ১৯৭৪ সালে। এই চুক্তি মোতাবেক বিতর্কিত বেরুবাড়ি অঞ্চলটি ভারতের। বিনিময়ে বাংলাদেশের বড়ছিট দহগ্রাম ও আঙ্গারপোতাকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে একটি করিডরের মাধ্যমে সংযোগ করার জন্য তিনবিঘা জমি লিজ হিসাবে পায় যা ‘তিনবিঘা করিডর’ নামে পরিচিত। যদিও তিনবিঘা করিডরের পাশ্ববর্তী মানুষরা রাজি ছিল না করিডরের পক্ষে যার জেরে ব্যাপক আন্দোলন দেখা গিয়েছেল। যা ঐতিহাসিক তিনবিঘা আন্দোলন নামে পরিচিত। তবে ১৯৯২ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আঞ্চলিক বাধা সত্ত্বেও ভারত সরকার তিনবিঘা করিডর প্রদান করেন ৯৯ বছরের জন্য। তিনবিঘা করিডরটি প্রথম দিকে বাংলাদেশের জন্য ১২ ঘণ্টা খোলা থাকলেও বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সীদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সরকার।

তিনবিঘাকে কেন্দ্র করে যে ঐতিহাসিক আন্দোলন হয়েছিল সেই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতৃত্বে ছিল বর্তমান মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারিও। সেই আন্দোলন থেকে স্থানীয় এলাকা তো বটেই গোটা রাজ্যে পরিচিতি লাভ করে পরেশ বাবু। কাজেই পরেশ চন্দ্র অধিকারি বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ায় তিনবিঘার উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী কুচলিবাড়ির মানুষরা। গোটা উত্তরবঙ্গ এমনকি বাইরে থেকেও প্রচুর পর্যটক প্রতিনিয়ত ঘুরতে যান মেখলিগঞ্জের ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডরে। গুরুত্বের দিক দিয়ে পর্যটকদের তিনবিঘার করিডরের কদর খুব রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু আগত পর্যটকদের তিনবিঘা করিডরের পরিবেশ তেমন ভাবে আকৃষ্ট করতে পারে না বলে জানান তাঁরা। যার ফলে এলাকাবাসীর সঙ্গে তিনবিঘায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের দাবি তিনবিঘা করিডরকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন হাব গড়ে তোলা হোক।

- Advertisement -

পর্যটকরা বলেন, ‘ঐতিহ্যের দিক দিয়ে তিনবিঘা করিডরের সুনাম রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বই ও খবরের কাগজে তিনবিঘা করিডরের কথা শুনেছি। কিন্তু এখানে সামান্য শৌচালয়ও দেখা মিলল না। তিনবিঘা করিডর লাগোয়া একটি পার্ক থাকলেও পার্কটির দোলনা, বসার চেয়ার, বাচ্চাদের খেলনার সামগ্রী সবই ভেঙে বিপজ্জনকভাবে রয়েছে। আমরা চাই সরকার তিনবিঘা নিয়ে ভাবুক একটু।’ কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ সফরে আসা কনক মোহন্ত রা বলেন, ‘তিনবিঘা করিডর ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটতারের বেড়া সহ এই এলাকাটি খুবই ভালো লেগেছে কিন্তু এখানে রাত্রিবাস ও খাওয়ার কোনও হোটেল বা রেষ্টুরেন্ট না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।’

তিনবিঘা সংলগ্ন বাসিন্দা তথা শিক্ষক মানবেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘পর্যটকদের কথা ভেবে ভারত-পাকিস্তানের ওয়াঘা করিডরের মত তিনবিঘা করিডরকে পরিণত করা উচিৎ। তিনবিঘা করিডরকে কেন্দ্র করে পর্যটন হাব গঠন হলে যেমন আগত পর্যটকরা উপকৃত হবে তেমনি পিছিয়ে পড়া সীমান্ত এলাকায় কর্ম সংস্থান বাড়বে।’ সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক পরেশ অধিকারি বলেন, ‘বাম আমলে আমি বিধায়ক থাকাকালীন তিনবিঘা করিডরকে কেন্দ্র করে একটি পার্ক তৈরি করেছিলাম। সেই পার্ক আরও ভালো কিভাবে করা যায় সেটি নিয়ে ভাবছি প্রাথমিকভাবে। তিনি আরও বলেন, ‘সবে মাত্র সরকার গঠন হচ্ছে। এখনও দপ্তর বণ্টন হয়নি। দপ্তর বণ্টন হওয়ার পর আর কী কী করা যায় তা দেখছি।’