বেতন চুক্তি কার্যকর করার দাবিতে বিক্ষোভ

87

দূর্গাপুর: বেতন চুক্তি কার্যকর ও কেন্দ্র সরকারের বিলগ্নীকরণের চিন্তা ভাবনা নিয়ে কর্মীদের সচেতন করতে বিক্ষোভে শামিল তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। শুক্রবার সকাল আটটা থেকে সাড়ে নটা পর্যন্ত দূর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বা ডিএসপির মূল গেটের সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। অবরোধের জেরে রাস্তায় আটকে পড়েন বহু মানুষ। পরে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়।
বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি, ন্যাশনাল জয়েন্ট কাউন্সিল অফ স্টিলের মাধ্যমে বেতন চুক্তি করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই চুক্তি কার্যকর করেনি কর্তৃপক্ষ। বারবার কারখানার আর্থিক পরিস্থিতি খারাপের কথা জানিয়ে চুক্তির বিষয়টি কার্যকর করার ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাচ্ছে সেল কর্তৃপক্ষ। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি রেকর্ড নগদ সংগ্রহ করেছে সেল। যার জেরে বকেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এক মাসে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া মিটিয়ে রেকর্ড গড়লেও সংস্থার কর্মীদের বঞ্চিত করে রেখেছে সেল কর্তৃপক্ষ বলেও দাবি জানান তাঁরা। এমনকি কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্গাপুরে কারখানা পরিদর্শনে এসে বেতন চুক্তি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে বিলগ্নীকরণ নিয়েও এদিন সরব হন কারখানার কর্মীরা। তাঁদের দাবি সালেম, দূর্গাপুর ও ভদ্রাবতীর বিলগ্নীকরণের যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে ভদ্রাবতী ও সালেমের টেন্ডার পাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দূর্গাপুরে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলের শ্রমিক সংগঠনের লাগাতার আন্দোলনের জেরে দূর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বিলগ্নীকরণ আটকে গিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি বৈঠকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ভিলাই ও দূর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আর্থিক অবস্থা বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ। আর এরপরেই বিলগ্নীকরণের কালো মেঘ এসে পড়েছে দূর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিলগ্নীকরণ নিয়ে কর্মীদের সচেতন করতেই এদিনের এই বিক্ষোভ আন্দোলন করা হয়েছে বলে জানান আইএনটিটিইউসির নেতারা। অবিলম্বে তাঁদের দাবি মানা না হলে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুমকিও দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।