প্রতিশ্রুতিই সার একবছরে মাদারিহাটের প্রাপ্তির ঝুলি শূন্য

145

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : আরও একটা বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু মাদারিহাটবাসীদের কপালে উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও জুটল না। রাজনৈতিক আকচা-আকচিতে মাদারিহাটের উন্নয়ন থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ বাসিন্দাদের। মাদারিহাটের পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জন্য মাদারিহাট বিখ্যাত। অথচ এখানে একটি দূরপাল্লার ট্রেনও দাঁড়ায় না। জলদাপাড়া টুরিস্ট লজের ম্যানেজার নিরঞ্জন সাহা বলেন, পর্যটনে এখানকার উন্নয়ন উল্লেখযোগ্যভাবে হয়েছে। তবে বন দপ্তরের সঙ্গে পর্যটন দপ্তরের সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যটকরা উপকৃত হবেন। এখানে একটি প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালের তকমা পেয়েছে ২০১৪ সালে। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরেও চিকিৎসক মেলেনি। সামান্য কারণে রোগীদের ছুটে যেতে হয় আলিপুরদুয়ার বা শিলিগুড়ি। যদিও রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি রশিদুল আলম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে তাঁরা চেষ্টা করছেন। মাদারিহাটের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিবশংকর দাস বলেন, রবীন্দ্রনগর, অশ্বিনীনগর, সুভাষনগর, উত্তর খয়েরবাড়ি, পূর্ব খয়েরবাড়ি, মধ্য মাদারিহাট ও পূর্ব মাদারিহাটের রাস্তাগুলিতে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এক কোদাল মাটিও পড়েনি। বর্ষাকালে রাস্তার খানাখন্দগুলি জলে ডুবে থাকে। আর শীতকালে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ যাতায়াত করেন। মাদারিহাটের রবীন্দ্রনগরে প্রায় চার বছর আগে জেলা পরিষদের উদ্যোগে কমিউনিটি হলের কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও তা উদ্বোধন হল না। ২০১৪ সালে মাদারিহাটের বর্তমান মাছ হাটের পাশে তৈরি করা হয়েছিল কসাইখানা। সেটিরও উদ্বোধন হল না।

- Advertisement -

মাদারিহাট থেকে টোটোপাড়া যাওয়ার রাজ্য সড়কের উপর রয়েছে তিতি ও বাংড়ি নদী। এই নদীর ওপর আজও পাকা সেতু তৈরি হল না। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখানে প্রচুর প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন। কিন্তু মাঠের সমস্যার জন্য তাঁদের প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। প্রাক্তন খেলোয়াড় চন্দ্রনাথ সাহা বলেন, মাদারিহাটে মাঠের সমস্যা দীর্ঘদিনের। উপযুক্ত উদ্যোগের অভাবে মাঠ তৈরি হচ্ছে না। মাদারিহাট হাইস্কুলের খেলার মাঠটি এখন ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। মাদারিহাট থেকে নির্বাচিত আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সদস্য আশা নার্জিনারি বলেন, রাস্তাগুলি মেরামত করা বা নতুনভাবে তৈরির জন্য জেলা পরিষদ থেকে কোনও অর্থ বরাদ্দ হয়নি। একটি শ্মশান, একটি ছোট ব্রিজ বা কালভার্ট তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হবে। কমিউনিটি হলের কাজ শেষ হলেও এই হলটি পরিচালনা কে করবেন সে ব্যাপারে কেউ দায়িত্ব নিতে না চাওয়ায় তা উদ্বোধন করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তবে কসাইখানাটি উদ্বোধনের প্রক্রিয়া চলছে বলে আশ্বাস দেন আশাদেবী।