গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আসছেন না প্রধান-উপপ্রধান, প্রতিবাদে তালা মেরে বিক্ষোভ

722

সামসী: প্রধান, উপপ্রধান সহ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীরা নিয়মিত অফিসে আসছেন না। এরফলে চাঁচল-১ ব্লকের অলিহন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম লাটে উঠেছে। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিষেবা না পেয়ে মঙ্গলবার গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্যের নেতৃত্বে পঞ্চায়েত অফিসে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত। শাসকদল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতে খোদ শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ও তালা মারার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

এদিন বিক্ষোভে শামিল সিহিপুরের বাসিন্দা মুকুল আলি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, গত ১৫ দিন ধরে প্রধান, উপপ্রধান সহ পঞ্চায়েত কর্মীরা অফিসে ঠিকঠাক আসছেন না। নানা দরকারে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এসে বাসিন্দারা ফিরে যাচ্ছেন। এদিনও কাজের জন্য বহু মানুষ পঞ্চায়েত অফিসে এসেছিলেন। কিন্তু কোনও কর্মী না আসায় অফিস বন্ধ ছিল। তাই তালা মেরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।

- Advertisement -

এদিন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদর দরজায় তালা মেরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নজরুল ইসলাম ও অন্য বাসিন্দারা। শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য নজরুল ইসলামের অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে অলিহন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে পঞ্চায়েত অফিসে আসছেন না। এলেও দেরিতে আসেন। পাশাপাশি দপ্তরের কাজেও তাঁরা জনগণকে নানাভাবে নাজেহাল করছেন। এদিনও একই চিত্র দেখা যায়। প্রায় এক ঘন্টা পরে কর্মীরা অফিসে এলে তাঁদের বাইরে বের করে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।’

যদিও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানোয়ারা বলেন, ‘ওই সদস্যের অভিযোগ ঠিক নয়। উনি কেন এমন করলেন জানি না। নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

তৃণমূল কংগ্রেসের চাঁচল-১ ব্লক সভাপতি সচ্চিদানন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘কী সমস্যা, কেন এমন হল, তা দলীয়স্তরে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

চাঁচল-১ এর বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মীদের মাঝেমধ্যেই দপ্তরের কাজে বা বিভিন্ন সভার জন্য বাইরে যেতে হয়। এদিন দপ্তরের এক কর্মী তো আমার কাছেই এসেছিলেন। তবু অভিযোগ যখন উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে।’